সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে মিড-লেভেল চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে শুক্রবার রাত থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার চার নম্বর ওয়ার্ডে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হাতাহাতি ও হামলায় রূপ নেয়। এ সময় একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক হামলার শিকার হন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংশ্লিষ্ট রোগী ও তাদের স্বজনদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হামলার প্রতিবাদে রাতেই এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, মধ্য রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলাকে তারা চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এ তথ্য জানান।
কর্মবিরতি শুরুর পর গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছি। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ এসব দাবি সমাধান হলে আমরা যেকোনো সময় কাজে ফিরে যেতে প্রস্তুত।’
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’










