চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর হত্যাকাণ্ড বেড়েছে দ্বিগুণ। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগই জমি ও পারিবারিক বিরোধের কারণে সংঘটিত হয়েছে। পুলিশের তথ্য বলছে, চলতি বছর উপজেলায় ১৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ও ১১টি জমি ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ঘটেছে। অবশ্য সবক’টি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও হত্যার কারণ উম্মোচন করতে পেরেছে বলে দাবি করছে পুলিশ।
মিরসরাই থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে তিনটি, ২০২২-এ দুটি, ২০২৩-এ পাঁচটি ও ২০২৪ সালে তিনটি হত্যা মামলা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ডিসেম্বর পর্যন্ত হত্যা মামলা হয়েছে আটটি। এছাড়া জোরারগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সাতটি, ২০২২ সালে চারটি, ২০২৩ সালে পাঁচটি ও ২০২৪ সালে চারটি হত্যা মামলা হয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়টি হত্যা মামলা হয়েছে। দুই থানার পরিসংখ্যান হিসাব করলে দেখা যায়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর হত্যার ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণ।
এ ব্যাপারে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার (সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘একটি ছাড়া সবক’টি মামলার আসামিদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সামাজিক অস্থিরতা ও পারিবারিক প্রতিহিংসার কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া অপরাধ কমানো সম্ভব নয়।’
চলতি বছর মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ১৩ জানুয়ারি শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুন্না নামে এক যুবদল কর্মীকে হত্যা। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি ইছাখালী ইউনিয়নের নন্দীগ্রামের বোনের পরিবারের বিরোধ মেটাতে গিয়ে মহিউদ্দিন নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
১ মার্চ সবুরা খাতুন (৭২) নামে একজনকে হত্যা করে তারই মেয়ের জামাই। মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় ওবায়দুল হক নামে একজনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর বারইয়ারহাট পৌর বাজারে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাহমিদ উল্ল্যা নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক কর্মীকে। এছাড়া ১৫ ডিসেম্বর জমির বিরোধের জের ধরে জোরারগঞ্জ থানার সোনাপাহাড় এলাকায় আবুল কালাম (৬০) নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়া ও অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনার বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্বাবিদ্যালয়ের অপরাধ বিদ্যা এবং পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ কমে যাওয়া, মব কালচার বেড়ে যাওয়া, অপরাধীদের বিচার না হওয়া ও সরকারের শিথিলতার কারণে দেশব্যাপী অপরাধ বেড়ে চলেছে। অপরাধ কমিয়ে আনতে হলে সমাজকে ঢেলে সাজাতে হবে। পারিবারিক শৃঙ্খলা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারিবারিক বৈশিষ্ট্যগুলো বাড়াতে হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় সচেতনতামূলক প্রচার ও সরকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা ও যে বা যারা সহযোগিতা করে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে পারলে অপরাধ প্রবণতা সমাজ থেকে কমিয়ে আনা সম্ভব।’










