বান্দরবানে মধ্যরাতে বাসায় ঢুকে শৈচিংমং (৪০) নামের এক কৃষককে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার নবগঠিত জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা হেডম্যানপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত কৃষক লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী নোয়াপাড়ার খ্যিদু মারমার ছেলে।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, নিহত শৈচিংমং প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ের পর থেকে বাঘমারা হেডম্যানপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি বসবাস করে আসছেন। তিনি ম্রুক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান মংপু মারমার বর্গাচাষী ছিলেন। একই সঙ্গে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজও করতেন। তাদের পরিবারে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রায় সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। কোনো সময় হেডম্যান, কোনো সময় কারবারির হস্তক্ষেপে সামাজিক বিচারের মাধ্যমে ওই দম্পতির কলহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হতো।

পাড়ার হেডম্যান মংপু মারমা নিহতের স্ত্রীর বরাত দিয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনজন লোক পাড়ায় প্রবেশ করে। তখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে শৈমংচিং বাসার বাইরে বের হন। এ সময় ওই তিন ব্যক্তিকে তার দিকে আসতে দেখে শৈমংচিং ঘরের দিকে ছুটে যান। দরজা বন্ধ করার আগেই তিন দুর্বৃত্ত তার ঘরে ঢুকে পড়ে। তখন তার স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। সে সময় তার স্ত্রীকে মুখোশ পরিয়ে রেখে শৈমংচিংকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।