সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল। জেলার নয়টি উপজেলার ৩২ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এ হাসপাতাল। কিন্তু হাসপাতালটিতে তীব্র চিকিৎসক সংকট রয়েছে। নার্স ও কর্মচারী সংকটও প্রকট। এতে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে জেলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৫৮টি। এর মধ্যে ৩১টি পদই শূন্য। ১০টি সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদের নয়টিই শূন্য। জেনারেল কনসালট্যান্টের পদ রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে শূন্য পদ ছয়টি। মেডিকেল অফিসার পদে নয়জন থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন তিনজন। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণীর ২২২টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১১টি পদ। তৃতীয় শ্রেণীর ৬২টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৩০টি পদ। চতুর্থ শ্রেণীর ৯০টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫৫টি পদ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় সোয়া ৩০০।

হাসপাতালটিকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় ২০১৪ সালে। করা হয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়নও। হাসপাতালটিতে শিশু, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, কিডনি ডায়ালাইসিস ও সিসিইউসহ উন্নত উপকরণ ও চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে পুষ্টিমান বজায় রেখে পর্যাপ্ত খাবারও সরবরাহ করা হয়। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকলেও অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হয়নি চিকিৎসক ও জনবল। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। প্রতিনিয়তই রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সরকারি হিসাব বলছে, এ জেলার নয় উপজেলায় জনসংখ্যার পরিমাণ ৩২ লাখ ২০ হাজার ৮১৪ জন। বৃহৎ এ জনগোষ্ঠী স্বল্প মূল্যে উন্নত সেবার জন্য এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তবে স্থানীয়দের আক্ষেপ, চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকায় তারা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। ফলে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা নবকুমার কর্মকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য এখানে আসছেন। জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই, জনবল নেই। ফলে মানুষ সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও অনেককে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরিব মানুষ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ জনবল সংকট রয়েছে। এতে কিছুটা সমস্যায় তো পড়তেই হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলেও শতভাগ চিকিৎসাসেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে বর্তমানে কর্মরতদের নিয়েই আমরা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকাসহ কিছু সমস্যা থাকায় পদগুলো পূরণে একটু সময় লাগবে।