একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরুর পর প্রথম তিনদিনে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন গ্রাহকরা। বিপরীতে নতুন জমা ও লেনদেন বাবদ ব্যাংকে অর্থ আসা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রাহকদের আবেদনের বিপরীতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে অর্থ পরিশোধ করা হলেও বাস্তবে অনেকেই টাকা না তুলে ব্যাংকের প্রতি পুনরায় আস্থা দেখাচ্ছেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর সর্বমোট ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। তাদের টাকা দেয়া হয় ৭ সেপ্টেম্বর। তবে আবেদন করা সব গ্রাহক আমানত তুলে নেননি। অর্থ ফেরতের প্রথম দিন ৮ হাজার ১২৫ জন গ্রাহক ৩১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। একইদিন ক্যাশে ৯৩ কোটি এবং আরটিজিএস, বিএফটিএন ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ৫১ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ১৪১ কোটি টাকা আমানত হিসেবে ব্যাংকে জমা হয়।
এরপর ২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩ জন গ্রাহক ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। এরমধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার ২৩৪ জন গ্রাহক ৩৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। বিপরীতে ব্যাংকে নতুন করে আমানত জমা হয় ১৯৫ কোটি টাকা।
আর আজ অর্থ ফেরত দেয়া হয় ৩ সেপ্টেম্বরের আবেদনকারীদের। সেদিন ২১ হাজার ৮৬ জন গ্রাহক ৯৬৩ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন। তবে আজ ব্যাংকে টাকা তুলতে আসেন মাত্র ১০ হাজার ৬৯৭ গ্রাহক। সর্বমোট ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেন তারা।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, গ্রাহকদের আবেদন অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক তাদের অর্থ উত্তোলন করছেন। একইসঙ্গে ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ এবং লেনদেনের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
আর্থিক সংকটে নুয়ে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। এরপর বিভিন্ন শর্তে গ্রাহকদের আংশিক টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেয়া হলেও গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৪ হাজার গ্রাহক প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৭ সেপ্টেম্বর অর্থ ফেরত দিতে শুরু করে ব্যাংকটি। গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকও ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ব্যাংকটিকে।










