নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মহাদেও নদের বালুমহালের ইজারাসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর এক মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সম্পূরক এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত রোববার এ আদেশ দেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ওই সম্পূরক আবেদনটি করে। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী এস হাসানুল বান্না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

শুনানি শেষে নদের ওমরগাঁও, হাসনায়াগাঁও ও বিশাউতি বালুমহালের ইজারা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাধ্যমে বালুমহালের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করে এক মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি মহাদেও নদের ওমরাগাঁও, হাসনায়াগাঁও ও বিশাউতি বালুমহালের ইজারা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল একটি রিট করে। এতে বিবাদী করা হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কমিশনার এবং নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।

অ্যাডভোকেট এস হাসানুল বান্না জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) নেত্রকোনার কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়নের সন্ন্যাসীপাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মহাদেও নদে বিদ্যমান ‘রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১৩ জুন আদালত রুল জারি করেন। একই সঙ্গে মহাদেও নদকে কেন প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চান আদালত। এছাড়া আদালত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নেত্রকোনার সহকারী পরিচালককে নদের অবস্থাসংবলিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ৯০ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন।’

এদিকে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর মহাদেও নদে বালি উত্তোলনসংক্রান্ত ইজারা বাতিল করা হয়। সম্প্রতি হাইড্রোগ্রাফিক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ না করেই চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি মহাদেও নদের ওমরাগাঁও, হাসনায়াগাঁও ও বিশাউতি বালুমহাল ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দরপত্রের কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন  করে বেলা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, ‘আদেশের কপি হাতে পাইনি। হাতে পেলে আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’