উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ রোধে দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও এজন্য টেকসই অর্থায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বরিশালে আয়োজিত ওয়েবিনারে এ অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।
‘জন্ম হোক সুরক্ষিত, ভবিষ্যৎ হোক আলোকিত’ প্রতিপাদ্যে এ বছর পালিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এ উপলক্ষে অ্যাডভোকেসি ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, দেশে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ দায়ী হলেও এটি মোকাবেলায় অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ। বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো অপরিহার্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৪ সালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বক্তারা বলেন, অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অন্যতম একটি লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে (সরকারি এবং বেসরকারি উভয়ই) অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও এ খাতে অর্থ বরাদ্দ এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে সাফল্য দেখাতে পারেনি।
ওয়েবিনারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ারের (সিবিএইচসি) লাইন ডিরেক্টর ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। এ মুহূর্তে ওষুধের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে আমরা দ্রুতই তা কাটিয়ে উঠতে পারব।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ যেন না বাড়ে সেজন্য খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাচরণে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিতে হবে।’










