নির্মাণের ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়নি ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকার পরও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর অজানা কারণে ব্যবহার হচ্ছে না বাস টার্মিনালটি। ফলে রোদ-বৃষ্টিতে কষ্ট করে রাস্তা থেকেই বাসে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মাদকসেবীসহ অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে এটি।

জেলার একমাত্র কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটিতে বসার ব্যবস্থা, ক্যান্টিন, কাউন্টার, টয়লেট ও নামাজের ব্যবস্থাসহ রয়েছে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা। তার পরও দীর্ঘ ১৭ বছরেও টার্মিনালটি চালু না হওয়ার পেছনে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাই দায়ী বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। দু-একটি নষ্ট যানবাহন ভেতরে ফেলে রাখা ছাড়া আর কোনো কাজেই আসছে না টার্মিনালটি।

টার্মিনালটি ব্যবহার না করায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। আর মালিক সমিতির নির্দেশেই রাস্তার ওপর কাউন্টার ব্যবহার করে বিক্রি করা হচ্ছে টিকিট। এতে নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যাত্রীরা আর রাস্তায় তৈরি হচ্ছে যানজট।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যাত্রী জানান, আমরা নিয়মিত কাজে ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করি। বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় প্রসাব-পায়খানার চাপ অনুভূত হলেও কিছুই করার থাকে না। কারণ গাড়ি ছাড়ে রাস্তা থেকেই। সরকার এত টাকা দিয়ে টার্মিনাল তৈরি করে দিয়েছে, তা এখন মাদকসেবীদের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আমরা আশা করছি কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

জেলা মোটরমালিক সমিতির সভাপতি বাবলু জানান, জেলার চারটি উপজেলাই উল্টো পাশে অবস্থান করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেও তা কাজে লাগাতে পারছি না। আমরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছি ঢাকাগামী বাসগুলো নিয়ে। ঢাকাগামী বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে আশ্বস্ত করলেও তারা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস ছাড়ার কারণে টার্নিমালটি পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। আমরা এ বিষয়ে আবারো আলোচনায় বসব। দ্রুত এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেব।

ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়র আনজুমান আরা বন্যা জানান, কয়েক দফা শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতি নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। শিগগিরই তা কার্যকর করা হবে বলে আশা করছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান জানান, বাস টার্মিনালটি ব্যবহার না করায় যেমন যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেব।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার অধীনে ২০০৩ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে পাঁচ বিঘা জমির ওপর এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল।