ড্রাগন আমেরিকার একটি জনপ্রিয় ফল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে ফলটির চাহিদা ও আবাদ বেড়েছে বহুগুণ। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষিবিদদের ভাষ্যমতে, চলতি মৌসুমে (২০২৩-২৪) ২২৩ দশমিক ৮৩ হেক্টর জমিতে ড্রাগন আবাদ হয়েছে, যা ২০১৯-২০ মৌসুমে ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৫৬ হেক্টর। সেক্ষেত্রে গত পাঁচ বছরে ড্রাগন আবাদ বেড়েছে প্রায় ৩০ গুণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাজশাহীতে সর্বপ্রথম গোদাগাড়ী উপজেলায় আধা হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হয়। ওই সময় গড় ফলন আসে হেক্টরপ্রতি পাঁচ টন। মোট উৎপাদন দাঁড়ায় আড়াই টন। এরপর ধীরে ধীরে দুই-তিন হেক্টর করে বাড়তে থাকে ড্রাগন আবাদ। ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহীতে ৭ দশমিক ৫৬ হেক্টর জমিতে ড্রাগন আবাদ হয়। এতে গড় ফলন আসে ১১ দশমিক ৯৩ টন এবং মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ২১ টন। ২০২০-২১ মৌসুমে ২৭ দশমিক শূন্য ৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হয়। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হয় ১১ দশমিক ৯৯ টন। ওই বছরে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৩২৪ দশমিক ৭৮ টন। ২০২১-২২ মৌসুমে ড্রাগন চাষ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ দশমিক ৭১ হেক্টর। এতে মোট উৎপাদন আসে ৬৮৮ দশমিক ৩ টন। ২০২২-২৩ মৌসুমে ড্রাগনের আবাদ বেড়ে দাঁড়ায় ২১৩ দশমিক ৬ হেক্টর। এ বছর উৎপাদন হয় ৪ হাজার ৩৬ দশমিক ৯৭ টন। চলতি মৌসুমে (২০২৩-২৪) রাজশাহীতে ড্রাগন আবাদ হয়েছে ২২৩ দশমিক ৮৩ হেক্টর। গড় ফলন হয়েছে ২০ দশমিক ৬৪ টন। মোট উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৬২০ দশমিক ১৩ টন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ও অতিরিক্তি উপপরিচালক আব্দুল্লাহ হিল কাফী বলেন, ‘ভালো দাম পাওয়ায় রাজশাহীতে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন চাষীরা। একবার এ বাগান তৈরি পর সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে প্রায় ১৫-২০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।’