বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদী উপজেলার মানুষের যাতায়াতে নদী পথের ভোগান্তি দূর করতে যাচ্ছে নবনির্মিত কদমতলী সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। কবে নাগাদ এটি উদ্বোধন হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে সেতুর সব কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। 

বরিশালের ভাষানচর ইউনিয়নের সাত হাজার বিঘা এলাকায় নয়াভাঙ্গানী নদীর ওপর কদমতলী সেতুটির নির্মাণকাজ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করেছে। এখন চলছে সৌন্দর্যর্ধনের কাজ। সেতুটির অন্য প্রান্ত বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের দীঘলিপাকা গ্রামকে যুক্ত করেছে। বরিশাল জেলা শহরের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন তিন উপজেলাকে সড়ক পথে যুক্ত করতে শিগগিরই শায়েস্তাবাদ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে আরেকটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বরিশাল জেলা শহর থেকে মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদী উপজেলা যাতায়াতের একমাত্র সড়কে দুটি নদনদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নয়াভাঙ্গানী নদীর ওপর কদমতলী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। এর নির্মাণকাজ ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। যদিও সময় বাড়িয়ে তা চলতি মাস পর্যন্ত করা  হয়। সে অনুযায়ী সেতুর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এটির কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে বরিশাল এলজিইডি। 

এ সড়কের শায়েস্তাবাদে আড়িয়ালখাঁ নদের ওপর সেতু নির্মাণের এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে চিঠি চালাচালি চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘এ নদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বেশি হওয়ায় এটি এলজিইডি করতে পারছে না। এটি সড়ক জনপথ বিভাগ করবে। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।’ কদমতলী সেতুর বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ সেতুর নির্মাণকাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছে। ঈদুল ফিতরের সময় সেতু পরিদর্শন করে দেখেছি।’ 

বরিশাল এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, জেলা শহর থেকে সড়ক পথে মেহেন্দিগঞ্জ হিজলা ও মুলাদী যাতায়াতে মূল বাধা শায়েস্তাবাদের আড়িয়াল খাঁ নদ ও ভাষানচরের নয়াভাঙ্গানী নদী। দুটি নদ-নদীর কারণে যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের পারাপারে ভরসা খেয়া নৌকা। দীর্ঘদিন এসব এলাকার বাসিন্দারা সেতুর দাবিতে সোচ্চার। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ এ সড়কের নয়াভাঙ্গানী নদীর ওপর কদমতলী সেতুর প্রকল্প অনুমোদন করাতে সক্ষম হন। চলতি মাসে এলজিইডি সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে। তবে শায়েস্তাবাদে আড়িয়াল খাঁ নদ আয়তনে বড় হওয়ায় সেখানে সেতু নির্মাণে জটিলতা দেখা দেয়। 

এলজিইডি বরিশাল অফিস সূত্র জানায়, নয়াভাঙ্গানী নদীর ওপর কদমতলী সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। নবনির্মিত এ সেতুর ৪৪টি গার্ডার, ১১টি স্লাব রয়েছে। 

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মাহফুজুল আলম লিটন বলেন, ‘‌নয়াভাঙ্গানী নদীর ওপর কদমতলী সেতু এখন দৃশ্যমান। এটি উদ্বোধন হলেই দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না, শায়েস্তাবাদ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীতে সেতু না হলে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনা হবে না। আড়িয়াল খাঁর শায়েস্তাবাদ অংশে সেতু হলে আমরা আর দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা থাকব না। দিনে দু-তিনবার জেলা শহরে আসা-যাওয়া সম্ভব হবে। আর এখন সেতু না থাকায় ৪৫ কিলোমিটার ঘুরে গাড়িতে বাবুগঞ্জ উপজেলা হয়ে বরিশাল যেতে হয়। সময় আর অর্থ বাঁচাতে বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জ না গিয়ে সহজপথ শায়েস্তাবাদের খেয়া পার হয়ে বরিশালে যাতায়াত করে আসছে মানুষ। শায়েস্তাবাদ আড়িয়াল খাঁ নদে আরেকটি সেতু হলে সময় বাঁচবে দেড় ঘণ্টা’ 

স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ বলেন, ‘‌নয়াভাঙ্গানী নদীর কদমতলী সেতুর পর আমরা আড়িয়াল খাঁ নদের শায়েস্তাবাদ ও বাবুগঞ্জের ময়দানের হাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সমীক্ষা করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ দুটির যেকোনো একটি স্থানে সেতু হলে আমরা অবহেলিত জনপদের মানুষ উপকৃত হব। আড়িয়াল খাঁয় সেতু হলে জেলা সদরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন উপজেলাগুলো যুক্ত হবে। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।’ 

এ বিষয়ে এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘‌কদমতলী সেতুর কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কও নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এটি উদ্বোধনের দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।’