নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন মোকাবেলায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল প্রস্তুত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওমিক্রন মোকাবেলায় এরই মধ্যে করোনা ইউনিটে ৩৪০টি সাধারণ শয্যা, ৪০টি কেবিন ও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ২২টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।
গতকাল সকালে হাসপাতালটির করোনা ইউনিট ঘুরে দেখা গেছে, তিনজন করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে ৩৫ রোগী চিকিৎসাধীন। আইসিইউতে ২২ শয্যার বিপরীতে চারজন চিকিৎসাধীন। রোগীর চাপ না থাকায় করোনা রোগীদের স্বজনের আনাগোনা একেবারেই কম। রোগী কম থাকায় চিকিৎসাসেবা নিয়ে এখনো কোনো সমস্যা নেই। রোগী বা স্বজনদের কোনো অভিযোগ নেই।
মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, গত বছরের মাঝামাঝি করোনা রোগীদের চাহিদার তুলনায় অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছিল। এবার সেই বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এবার যেন কোনো সংকট না হয় সেজন্য আগেভাগে তারা ঢাকায় যোগাযোগ রাখছেন।
তিনি আরো জানান, একটি অক্সিজেন জেনারেটর বসানোর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক বাতাস থেকে অক্সিজেন তৈরি করা হবে। এটি তৈরির কাজ শেষ হলে সংকট কিছুটা কাটবে। এছাড়া একটি ১০-২০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর বিষয় প্রক্রিয়াধীন। মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগীর স্বজন আলীম উদ্দিন বলেন, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় তার বড় ভাইকে চারদিন আগে ভর্তি করেছেন। সবাই আন্তরিকতা দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
আরেক রোগীর স্বজন আলমাস খান জানান, করোনা ইউনিটে রোগীর চাপ খুবই কম। সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন। তবে রোগী বাড়লে সেবার মান কতটা ভালো থাকবে তা নিয়ে শঙ্কা আছে।
মমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম কিবরিয়া জানান, ওমিক্রন মোকাবেলায় হাসপাতালের করোনা ইউনিট সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এরই মধ্যেই চিকিৎসক ও করোনা ইউনিটের সবার সঙ্গে সভা করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিৎসাসেবায় কোনো সমস্যা হবে না।










