উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর অববাহিকায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আজ সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নেত্রকোনা জেলার ভুগাই–কংস নদী প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার এবং মগরা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজার জেলার মনু নদীর পানি প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির ফলে হাওর ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে।
এদিকে সকাল থেকেই টানা বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা। একই সঙ্গে সড়কে যানবাহনের চলাচলও ধীরগতিতে চলছে, কমেছে গণপরিবহনের সংখ্যাও।
আজ সকাল সাতটার পরপরই বৃষ্টির কবলে পড়েন অফিসগামী যাত্রীরা। টানা বৃষ্টিতে মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর-১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট সংলগ্ন নতুন সড়ক, খামারবাড়ি-ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, ইসিবি ও কালশীসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
বৃষ্টির কারণে সকালে সড়কে মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী, এমনকি অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।










