দেশে হৃদরোগ, ক্যান্সার, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও ডায়াবেটিস ইত্যাদি অসংক্রামক রোগ দিন দিন বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ তামাক পণ্যের ব্যবহার। ফলে এসব অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
গতকাল ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হলরুমে ‘বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে তরুণ চিকিৎসকদের ভূমিকা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এসব কথা বলেন চিকিৎসকরা।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ফজিলা-তুন-নেসা মালিক। তিনি বলেন, ‘দেশে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে আমাদের দেশে অল্প বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করা।’
কর্মশালায় ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে উঠে এসেছে, ই-সিগারেট নিয়ে বাংলাদেশে তামাক কোম্পানিগুলো ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে তরুণদের লক্ষ্য করে সিগারেট ছাড়ার মাধ্যম হিসেবে ই-সিগারেট বা ভ্যাপ নিয়ে অনলাইনে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে তারা। একই সঙ্গে সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর তুলে ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কম দামে সিগারেট পাওয়া যায়। তাই সিগারেটের ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হ্রাস করতে এর দাম ব্যাপকভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে ও গ্রহণ কমাতে কার্যকর করারোপের বিকল্প নেই।’
ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মো. আতাউর রহমান মাসুদ সিগারেটের প্রতি তামাক কোম্পানিকগুলো কীভাবে তরুণদের আসক্ত করছে তার প্রচারণা কৌশল সম্পর্কে আলোকপাত করেন। দিনব্যাপী কর্মশালায় চারটি সুপারিশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপ করা, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা, তামাক কোম্পানির প্রচারণা বন্ধ করা, ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং আইন করে নিষিদ্ধ করা।










