কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেছেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শহরের কাস্টমস অফিসের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আসমা খাতুন (২৫), তার সাত বছরের ছেলে রবিন ও শাকিল হোসেন (২৮) নামে আসমার এক বন্ধু। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই এএসআইকে আটক করেছে। আটক পুলিশ কর্মকর্তা সৌমেন রায় খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত বলে জানা গেছে। তার বাড়ি মাগুরা জেলায়। তিনি একসময় কুষ্টিয়ায় কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত শাকিলের বাবা মেজবার রহমান বাদী হয়ে এএসআই সৌমেন রায়কে আসামি করে গতকাল রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।
নিহত ওই নারীর বাড়ি কুমারখালীর নাটুরিয়া গ্রামে। তবে তারা কুষ্টিয়া শহরে থাকতেন। নিহতদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণও জানা যায়নি। তবে ওই নারীর মা ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ায় চাকরিকালে সৌমেনের সঙ্গে আসমার পরিচয় হয়। দুই বছর আগে সৌমেন তাকে বিয়ে করেছিলেন। অন্যদিকে নিহত শাকিলের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নাটুরিয়ায়ই। তার বাবার নাম মেজবার রহমান খান। তিনি বিকাশের স্থানীয় একজন এজেন্ট।
প্রত্যক্ষদর্শী এক দোকানি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই নারী কাস্টমস মোড়ে তার শিশুপুত্রকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন বিকাশ কর্মী শাকিল। তারা দোকানের সামনে দাঁড়িয়েই কথা বলছিলেন। তার কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন এএসআই সৌমেন। তিনিও কথা বলছিলেন। হঠাৎ সৌমেনকে খুব উত্তেজিত দেখায়। তার হাতে এ সময় পিস্তল দেখা যায়। এরপর তিনি পিস্তল দিয়ে ওই নারীর মাথায় গুলি করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মারা যান। এরপর তিনি শাকিলকেও মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। শিশু রবিন দৌড়ে পালিয়ে পাশের মসজিদের মধ্যে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে তাকে ধরে এনে মাথায় গুলি করা হয়। শিশুটিও ঘটনাস্থলে মারা যায়।
মোড়ে উপস্থিত লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে হত্যাকারী সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। জনতা তাকে ধাওয়া করলে তিনি পাশেই একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। উত্তেজিত জনতা ওই বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও হত্যাকারীকে আটক করে।
কুষ্টিয়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এএসআই সৌমেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, শিশুটির কোনো অপরাধ ছিল না। এমনকি সে মায়ের মৃত্যু দেখে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল।
নিহত আসমার মা হাসিনা বেগম দাবি করেছেন, তার মেয়ে আসমাকে সৌমেন বিয়ে করেছিলেন। অন্যদিকে নিহত শাকিলের এক বন্ধু জানান, আসমা শাকিলের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতেন। সৌমেনের সঙ্গে বিয়ের আগে আসমার আট বছর আগে বিয়ে হয়। সেই স্বামীরই সন্তান রবিন।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এএসআই সৌমেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বিকালে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তার বিরুদ্ধে আইনিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কর্মস্থল ফুলতলা থানা থেকে ছুটি না নিয়েই সৌমেন গতকাল সকালে কুষ্টিয়ায় গিয়েছিলেন। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ ও আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি বহন করায় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহিত উদ্দিন ও জেলা পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।










