গতকাল জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধু একটি পরিবারের সদস্য নন, তারা সমগ্র জাতিরই অংশ। তারা আমার ভাই, আমার স্বজন, আমার সহকর্মী—বাংলাদেশের মানুষ। তাদের প্রতি অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’ তিনি জানান, গুম প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করে আরো শক্তিশালী ও জনকল্যাণমুখী আইন প্রণয়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে সংসদের চলতি অধিবেশন বা পরবর্তী সময়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট বিল আনা হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় না পায়।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন, ১৯৭৩-এ গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা গুমের শিকারদের প্রতি অবিচার।
আইনমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘সব ধরনের অসংগতি দূর করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে, যা গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।’
তিনি বলেন, ‘গুমের ঘটনায় তদন্ত ব্যবস্থায়ও দ্বৈততা তৈরি হয়েছে। একদিকে আইসিটি আইনে তদন্তের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে গুম প্রতিরোধ আইনে ভিন্ন তদন্ত প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে। এ অসামঞ্জস্য দূর করা প্রয়োজন।’
এছাড়া মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন দিক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।’
আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংসদে এমন কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিক গুম বা হত্যার শিকার না হন।’










