প্রিমিয়ার ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত ২০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ কর্মকর্তারা রাজধানী ঢাকার গুলশান শাখার গ্রাহকদের ৩৯ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মামলার তদন্তে এফডিআর ও বিভিন্ন সঞ্চয় হিসাবের এসব টাকা আত্মসাতের যাবতীয় প্রমাণ পেয়েছে দুদক। চার্জশিট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আসামিরা হলেন—গুলশান শাখার সাবেক এসভিপি অ্যান্ড ম্যানেজার (অপারেশন) এএম ওমর খসরু, সাবেক এসইও অ্যান্ড জেনারেল ব্যাংকিং অফিশিয়াল আকবর হোসেন, সাবেক জেএভিপি অ্যান্ড জিবি ইনচার্জ কাজী কাওসার হোসেন, সাবেক জেএভিপি অ্যান্ড ইমপোর্ট ইনচার্জ মো. সাহেদ হোসেন, সাবেক জেএভিপি অ্যান্ড রিলেশনশিপ ম্যানেজার মো. মঞ্জুর হাসান ও সাবেক জুনিয়র অফিসার (বৈদেশিক বাণিজ্য) রুহুল আমিন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয় কমিশন। তারপর তদন্তকারী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের (ঢাকা-১) সহকারী পরিচালক আজিজুল হক আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর আজিজুল হক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

প্রিমিয়ার ব্যাংক গুলশান শাখার প্রধান ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদ সেকান্দার দুদককে জানান, ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা চলাকালীন শাখার বিভিন্ন লেজার এবং কিছু হিসাবের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। তখন কিছু অনিয়ম ও অসংগতি পরিলক্ষিত হলে বিষয়টি তারা নিরীক্ষা বিভাগের প্রধানকে অবহিত করেন। বিশেষ নিরীক্ষা টিম গুলশান শাখার ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের কার্যক্রম (লেনদেন) রেকর্ডভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৪৩ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৪ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। আত্মসাতের সঙ্গে ব্যাংকের ম্যানেজার (অপারেশন) এমএ ওমর খসরু, সিনিয়র কর্মকর্তা আকবর হোসেন, এভিপি মো. মঞ্জুর হোসেন, জেএভিপি মো. শাহেদ হোসেন, জেএভিপি ও জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ কাজী কাওছার হোসেন ও বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার জুনিয়র অফিসার রুহুল আমিন জড়িত রয়েছেন মর্মে অডিট প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।’