মামলার জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে আদালতে নতুন মামলা কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন।

আজ সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের (ডিবিএলএ) সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনগত সুরক্ষা কর্মসূচির (সেল্‌প) পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম ১৯৯৪ সালে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে ২০০০ সালে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনটিতে বিভিন্ন সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমান সরকারও আইনগত সহায়তা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর, আধুনিক ও জনমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে মামলার জট কমানো সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকা এবং মধ্যস্থতায় দক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া সমঝোতা স্মারক সেই যৌথ উদ্যোগেরই অংশ।

মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের ২০টি জেলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসে নতুন মামলা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশের বেশি কমেছে। তিনি বলেন, এটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

বিচার বিভাগের প্রতি এডিআর প্রক্রিয়াকে আরো উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন উপযুক্ত মামলাগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলে আদালতের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার আনতেও সরকার প্রস্তুত।

তিনি বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রমের সঙ্গে বেসরকারি অংশীদারদের সম্পৃক্ত করা হবে। এতে বিচারাধীন মামলাও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে। মামলার জট কমাতে কার্যকর গবেষণা বা আইন সংস্কারের বাস্তবসম্মত যেকোনো প্রস্তাব সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

সম্পত্তিসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলার সংখ্যা কমাতে সরকার সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সংশোধনী হলে বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তর করেও ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে পারিবারিক বিরোধ ও অপ্রয়োজনীয় মামলা কমবে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ব্লাস্টের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে আদালত-সহায়ক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেয়া হবে। একই সঙ্গে ব্লাস্ট পরিচালিত সফল মধ্যস্থতাকে আইনগত স্বীকৃতি দেয়া হবে। আর মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে আদালতে মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে।

অন্যদিকে, ব্র্যাকের সেল্‌প কর্মসূচির সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণ ও সনদ দেয়া হবে। পাশাপাশি সফল মধ্যস্থতার আইনগত স্বীকৃতি, ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রদান এবং যৌথ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম ও মো. খাদেম উল কায়েস, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসাইন, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনগত সুরক্ষা কর্মসূচি এবং লিঙ্গ ন্যায়বিচার ও বৈচিত্র্য কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।