মিরসরাইয়ে আমন রোপা আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ৫২ হাজার কৃষক। যে সময়ে আমন রোপার আবাদ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা কৃষকের, সে সময়ে তারা অনেকটা অলস সময় পার করছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন রোপা আবাদ করতে পারছেন না তারা। কৃষি অফিস বলছে, আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে হাইব্রিড উফশী জাতের ধানগুলোর চারা রোপণ করতে হবে। অন্যান্য বছর এ সময়ে ৫০ শতাংশ আমন রোপা আবাদ সম্পন্ন হলেও চলতি বছর বৃষ্টি না হওয়ায় আবাদ হয়েছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপণ করতে পেরেছেন কৃষক। অথচ গত বছর এ সময়ে প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে আমন রোপা আবাদ সম্পন্ন হয়েছিল। চলতি বছর মাত্র এক-চতুর্থাংশ জমিতে রোপা আবাদ হওয়ায় বেশির ভাগ জমিই অনাবাদি থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় আমন রোপার ভরা মৌসুমেও কৃষককে অনেকটাই অলস সময় পার করতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনাবাদি পড়ে আছে মাঠের পর মাঠ ফসলি জমি। অনেকে সেচের মাধ্যমে ছড়ার পানি দিয়ে আবাদ করলেও খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। কেউ কেউ আবার বাড়তি খরচের কারণে আবাদই করছেন না। অনেক কৃষক কাদা মাটিতে কোনোভাবে আমন চারা রোপণ করলেও পর্যাপ্ত পানিসংকটে ভুগছেন। এতে যথাযথ ফলন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাদের মনে।
উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের কৃষক অরুণ চৌধুরী জানান, গত বছর এ দিনে প্রায় ৩০০ শতক জমিতে আমন রোপা আবাদ করেছি। কিন্তু চলতি বছর মাত্র ৫০ শতক জমিতে আবাদ করতে পেরেছি। বাকি জমিগুলো অনাবাদি পড়ে আছে।
কৃষকরা জানান, আমন চাষ করে অনেক কৃষক সারা বছরের খোরাকি রাখেন। বাকি ধান স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেন। কিন্তু চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ না হওয়ায় অনেক কৃষক চাল কিনে খেতে বাধ্য হবেন।
আবুল কাশেম নামে এক কৃষক বলেন, অন্য বছর এ সময়ে উপজেলার খাল-বিলে পানি থইথই করত। অনেকে পানিতে মাছ ধরত। অনেক জমির চারা রোপণ ও সেচ দেয়া হতো এসব খাল-বিলের পানি দিয়ে। কিন্তু চলতি বছর পানি নেই বললেই চলে।
এদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। হিঙ্গুলী ইউনিয়নের নিমতলা এলাকার ট্রাক্টর মালিক সুরোজ জানান, আগে প্রতি একর জমি একবার চাষ দিতে তারা ১ হাজার ৫০০-১ হাজার ৮০০ টাকা নিতেন। এখন এক একর জমি একবার চাষ দিতে কমপক্ষে ২ হাজার ৫০০-২ হাজার ৮০০ টাকা নিতে হবে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা জানান, ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় আমন চাষাবাদে কৃষকের সমস্যা হচ্ছে। হাইব্রিডসহ উফশী জাতের ধানের চারা ২০ আগস্টের মধ্যে রোপণের নিয়ম। এরপর উফশী জাতের ধানের চারা রোপণ করলে ফলন কম ও উৎপাদন বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে। ২০ আগস্টের পর বিআর-২৩ জাতের ধান লাগানো ভালো। তবে মিরসরাইয়ে উফশী জাতের ধানের চাষ বেশি হওয়ায় কৃষকের মধ্যে সময়মতো ধান লাগাতে পারা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।










