মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে এ জোটের লক্ষ্য হবে সমুদ্রপথে নৌ-নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ মহড়া এবং প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা।
বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এ জোট গঠন করা হয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত এ জোটের সদর দপ্তরও দেশটিতেই হবে। খবর আল জাজিরা।
জোটে বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস যোগ দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধি দলও উদ্বোধনী বৈঠকে অংশ নেয়। যদিও ইইউর নিজস্ব অ্যাসপিডেস নৌ মিশন এরই মধ্যে লোহিত সাগরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, নতুন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এর সমন্বয় কীভাবে হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সৌদি আরব জানিয়েছে, ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি জোট গঠনের বৈঠকে অংশ নেন। ভবিষ্যতে জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অন্য দেশও এ জোটে যোগ দিতে পারবে। বিবৃতিতে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিশ্বাস—সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমুদ্রভিত্তিক হুমকি মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জোটটি কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি; এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ।
এ উদ্যোগ এমন সময়ে নেয়া হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে যেত, সেই হরমুজ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় বাব আল-মান্দেব-লোহিত সাগর-এডেন উপসাগর রুটও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে, যার ফলে লোহিত সাগরগামী তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজকে অবশ্যই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে যেতে হয়। ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মাঝে এ প্রণালি অবস্থিত। সামুদ্রিক এ সংকীর্ণ জলপথের পাশের ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ অবস্থান সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে লোহিত সাগরে জাহাজগুলোকে নিশানা করার কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেলসহ বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের ১০ থেকে ১২ শতাংশ এ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়ে থাকে। এটি লোহিত সাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার মাত্র দুটি জলপথের একটি। অন্যটি হচ্ছে সুয়েজ খাল।










