আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নির্মাণ করা হয়েছে যুব কর্নার-২। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হয় চলতি বছরের ২৬ মে। উপজেলার বারইয়ারহাটের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় যুব কর্নারটি উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসন ফরিদা খানম। তবে ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। চার মাস আগে উদ্বোধন হলেও দুই মাস ধরে কর্নারটি বন্ধ রয়েছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, যে উদ্দেশ্যে যুব কর্নারটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করা কঠিন। স্থান নির্ধারণে উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ভুল ছিল। কারণ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ক্রেতাদের খুব একটা আনাগোনা থাকে না। সেখানে ব্যবসার পরিবেশ নেই। একজন নারী উদ্যোক্তা ব্যবসা পরিচালনা করতে অনেক ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। এ কারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তবে নতুন করে ব্যবসা পরিচালনার চিন্তা করছেন তারা।

যুব কর্নারের পাশে রয়েছে মান্নান ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এটি পরিচালনা করছেন মো. শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘দুই মাস ধরে যুব কর্নারটি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে শুনেছি এখানে নতুন করে হোটেল দেয়া হবে।’

মাইক্রোবাসের কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভাকে প্রতি মাইক্রোবাসের জন্য ৫০০ টাকা করে টোল দেন তারা। মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে যুব কর্নারে স্টল করা হয়েছে ঠিকই, তবে স্থান নির্বাচন সঠিক হয়নি। এখানে ব্যবসার পরিবেশ নেই। একজন নারী উদ্যোক্তাকে এখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে অনেক ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। এছাড়া ক্রেতা অনুযায়ী যেসব ক্যাটাগরিতে যুব কর্নার দেয়া হয়েছে, তাও সঠিক নয়। কারণ ক্রেতার ওপর নির্ভর করে পণ্যের দাম ও মান। এ কারণে হয়তো যুব কর্নারটির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্গানিক ক্যাটাগরিতে যুব কর্নারে স্টল বরাদ্দ পাওয়া মো. আফতাব হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা ছয়জন উদ্যোক্তা যুব কর্নার বরাদ্দ পাওয়ার যে শর্ত, সেগুলো মেনে নতুন করে সাজাব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা এখনো ব্যবসা গুটিয়ে নিইনি। তাই ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। তবে ছয়জন মিলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রশিক্ষিত যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত ২৬ মে বারইয়ারহাট পৌরসভার মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে যুব কর্নার-২ উদ্বোধন করা হয়। অর্গানিক, ভ্যারাইটি সেন্টার, গ্রিন ভিলেজ, হিল স্টক, আমার রাঁধুনি ও সৃজনী ক্যাটাগরিতে ছয়জন উদ্যোক্তার মাঝে ছয়টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন আলতাফ, মামুন, এমকে রনি, সজীব, মথি ত্রিপুরা ও ঝর্ণা। তারা বলছেন, যুব কর্নার উদ্বোধনের পর দু-একদিন জমজমাট ছিল। পরে ধীরে ধীরে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌ছয়টি ক্যাটাগরিতে ছয়জন উদ্যোক্তাকে যুব কর্নার-২ বরাদ্দ দেয়া হয়। ছয়টি স্টলের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার টাকা। স্টলগুলো যারা বরাদ্দ পেয়েছেন তারা অন্য কাউকে হস্তান্তর করতে পারবেন না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে উদ্যোক্তারা ব্যবসা হচ্ছে না বলে জানাতে আমার কাছে এসেছিলেন।’