পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে পাথর-বালি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের বৈঠকের পর গতকাল থেকে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। ওই শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সব পক্ষের
ঐকমত্য হওয়ায় তিনদিন পর পাথর-বালি ব্যবসায় অচলাবস্থার নিরসন হয়েছে।
সোমবার রাত ১১টার পর তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের উদ্যোগে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতি ঘনফুট পাথর-বালি লোড-আনলোড বাবদ শ্রমিকদের মজুরি ১ টাকা ১০ পয়সা বৃদ্ধিতে ঐকমত্য হওয়ায় ব্যবসায়ী ফেডারেশনের নেতারা তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
বৈঠকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদুর রহমান ডাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াছিন আলী মণ্ডল, পাথর-বালি ব্যবসায়ী যৌথ ফেডারেশনের সভাপতি হাসিবুল হক প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী, ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ট ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জসিদুল ইসলাম জসিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং পাথর-বালি ব্যবসায়ী যৌথ ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রতি ঘনফুট পাথর এবং বালি ওঠানামা মজুরি ১ টাকা ১০ পয়সা বৃদ্ধি, প্রতি ট্রাকে বালি ওঠানো চুক্তিভিত্তিক ১ হাজার ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং প্রতি ট্রাকের পূর্বনির্ধারিত ৭০০ টাকা কমিশনে বালি-পাথর ওঠানো-নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী বলেন, শ্রমিকরা তিন বছর আগের যে মজুরিতে কাজ করতেন, এখন সেই মজুরিতে তাদের সংসার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য তারা মজুরিতে বৃদ্ধি করেছিলেন। এর প্রতিবাদে পাথর-বালি ব্যবসায়ীরা পাথর-বালি কেনাবেচা বন্ধ রাখেন।
জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, পাথর-বালি লোড-আনলোড শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে পাথর-বালি কেনাবেচা বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার রাতে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসা হয়। বৈঠকে আগের প্রতি ঘনফুট পাথর-বালি লোড-আনলোড বাবদ শ্রমিকদের মজুরি ২ টাকা ৮০ পয়সার পরিবর্তে তিন টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ঘনফুটে (সিএফটি) ১ টাকা ১০ পয়সা বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক নেতারা সম্মত হয়ে পাথর-বালি ক্রয়-বিক্রয় ও লোড-আনলোড শুরু করেন।










