দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণের জন্য আজ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ছয় জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার ইলিশ অভয়াশ্রমসংশ্লিষ্ট নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুরের মেঘনায় ড্রেজার দিয়ে বালি ও মাটি উত্তোলন বন্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর ইলিশ রক্ষায় ড্রেজার বন্ধে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে। চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ গবেষকদের মতামত নিয়ে জেলা প্রশাসককে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। এতে ইলিশের বৃহত্তম জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সম্প্রতি হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও ইলিশের অভয়াশ্রম নিরাপদ করতে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে ড্রেজার বন্ধে নির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় ও ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামীকাল (আজ) থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নৌ-সীমানার মেঘনা নদীতে সব ধরনের ড্রেজার বন্ধ থাকবে।

এছাড়া নদীসংলগ্ন প্রতিটি খালের প্রবেশমুখ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দেন। জেলে নৌকা উপরে উঠিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে। তিনি ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে ইঞ্জিন খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এসবের দায়িত্বে থাকবেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভা হলে সেই ওয়ার্ডেও সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক হয়ে জনপ্রতিনিধি ও জেলে প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অভিযান সফল করতে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চালাতে হবে। বিশেষ করে জেলেদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরও নজরধারীতে রাখতে হবে এবং তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুধু পুকুরের মাছের জন্য একটি বরফকল ব্যতীত বাকি সব বরফকল বন্ধ থাকবে।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, আমরা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি। ইলিশ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।

এদিকে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, চাঁদপুরের মেঘনায় খননযন্ত্রের মাধ্যমে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে তৈরি হচ্ছে নাব্যতা সংকট। নষ্ট হচ্ছে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল। ফলে মৌসুমে সমুদ্র থেকে ইলিশ আসতে না পারায় ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাই সবার আগে নদীতে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। তাহলে রক্ষা পাবে দেশের মৎস্য সম্পদ।