ভারত একটি জটিল ও প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ পরিবেশের মাঝে মর্যাদাপূর্ণ জি২০ প্রেসিডেন্সি গ্রহণ করেছে। আজকের সংকটগুলো বিভিন্ন মাত্রার ও ধরনের—সেটা জলবায়ুবিষয়ক হোক বা ভূরাজনৈতিক হোক—এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবকেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে জি২০ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেতৃত্ব দেয়ার অনন্য সুযোগ আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছে।

জি৭ অংশীদার হিসেবে, ব্রিকস ও কোয়াডের সদস্য হিসেবে, এসসিও ও জি২০-এর বর্তমান চেয়ার ও ‘ভয়েস অব দ্য গ্লোবাল সাউথ’ হিসেবে, উন্নয়নশীল দেশ ও উন্নত অর্থনীতির মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে বৈশ্বিক উদ্বেগগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করার জন্য দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থপূর্ণ সমাধান এবং দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করার ক্ষেত্রে ভারতের স্বতন্ত্র সম্মান রয়েছে।

বৃহৎ প্রত্যাশা

ভারতের কাছ থেকে একটি সমাদৃত প্রত্যাশা রয়েছে যে একটি বৃহৎ উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে শাসন ব্যবস্থা ও তার বিলিয়নেরও বেশি জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য উদ্ভাবনী ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করে আজকের দিনের বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতাগুলোর সমাধান দিতে সক্ষম হবে। দায়িত্বটি ক্রমবর্ধমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক শাসন কাঠামো, যা আট দশক ধরে চলছে, যা গত কয়েক বছরের সংকট প্রতিরোধ বা সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘আমাদের এটাও স্বীকার করতে হবে যে এ ব্যর্থতার করুণ পরিণতি সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। বছরের পর বছর ধরে অগ্রগতির পর আমরা আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছি।’

তাই ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির অগ্রাধিকার হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ গঠন এবং বিভিন্ন খাতে ভারতের সেরা অনুশীলনগুলো ভাগ করে নেয়া। এ উচ্চাকাঙ্ক্ষা গত বছর বালিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির মাধ্যমে উপস্থাপন হয়েছিল, যখন তিনি বলেছিলেন, ‘ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, উচ্চাভিলাষী, সিদ্ধান্তমূলক ও কর্মমুখী।’

অন্তর্ভুক্তির এ অনুশীলন রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে ভারতের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে জি২০ বৈঠক আয়োজন করার সিদ্ধান্ত দিয়ে শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ভারতের ৪৮টি পৃথক স্থানে ১৩১টি জি২০ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দুটি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল বাদে পুরোটা জুড়ে বিস্তৃত।

ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির মূল সুর—‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘এক পৃথিবী এক পরিবার এক ভবিষ্যৎ’, যা মহা উপনিষদের প্রাচীন সংস্কৃত পাঠ থেকে নেয়া হয়েছে। এ মূল সুর মূলত জীবনের সব মূল্য—মনুষ্য, প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণুজীব এবং এ পৃথিবী ও বৃহত্তর মহাবিশ্বে তাদের আন্তঃসংযুক্তিকে নিশ্চিতভাবে সমর্থন করে। এ মূল সুর LiFE (পরিবেশের জন্য জীবনধারা)-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, পরিবেশগতভাবে টেকসই ও দায়িত্বশীল  বিকল্পগুলোকেও বিশেষভাবে চিহ্নিত করে, পৃথক জীবনধারার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন উভয় স্তরেই, যা বিশ্বব্যাপী রূপান্তরমূলক কর্মের দিকে পরিচালিত করে, যার ফলে একটি অধিকতর পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নীল ভবিষ্যৎ সূচনা করে।

মূল সুরটি ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়, যা বিশ্বের সবার জন্য ন্যায়সংগত ও যথার্থ উন্নয়নের জন্য প্রয়াস চালাচ্ছে, যখন আমরা এ অস্থির সময়ে একটি টেকসই, সামগ্রিক, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতিতে চলছি। আশপাশের বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য তারা আমাদের জি২০ প্রেসিডেন্সিতে একটি অনন্য ভারতীয় পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে।

ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির অধীনে আমন্ত্রিতরা অন্তর্ভুক্তির আরেকটি দিক প্রতিফলিত করে। দক্ষিণ আফ্রিকা (জি২০ সদস্য), কোমোরোস (আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট), নাইজেরিয়া, মিসর (আমন্ত্রিত দেশ ও এনইপিএডি চেয়ার) ও মরিশাসের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির অধীনে আফ্রিকাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিনিধিত্ব করা হবে।

ওয়াইডেনিং দ্য ক্যানভাস

ভারতের প্রেসিডেন্সির অধীনে জি২০-এ অংশগ্রহণ শুধু জি২০ সদস্য বা আমন্ত্রিত দেশগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। আলোচনার ভিত্তিকে সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত করার জন্য অন্যান্য দেশ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও নির্দিষ্ট জি২০ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ব্লু ইকোনমিতে আগ্রহ ও দক্ষতা থাকার কারণে নরওয়েকে সমুদ্রের স্বাস্থ্য নিয়ে অনুষ্ঠেয় জি২০ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইভাবে জি২০-এর গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন (জিপিএফআই) ভারতের প্রেসিডেন্সির অধীনে প্রায় ৪০টি দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সেরা অনুশীলন ও মডেলগুলো ভাগ করে নেয়ার একটি ফোরাম। যেমনটি প্রধানমন্ত্রী মোদি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ‘টেকসই জীবনধারা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: আমাদের জীবনধারা জলবায়ু কর্মের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির পরিপূরক হওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘প্রো-প্লানেট পিপলস মুভমেন্ট’-এর আহ্বান অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে মৌলিক একটি অনুশীলন। ভারত স্বীকার করে যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে একা একা কনফারেন্স টেবিল থেকে লড়াই করা যায় না এবং প্রতিটি বাড়ির খাবার টেবিল থেকে লড়াই শুরু করা দরকার। এটি অর্জন করার লক্ষ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। সার্কুলার ইকোনমি ও ‘ওয়েস্ট টু ওয়েলথ’ হলো সেসব গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যা ভারত জি২০ প্রেসিডেন্সির অংশ হিসেবে প্রচার করতে চায়।

ব্লেন্ডিং ডমেস্টিক অ্যান্ড গ্লোবাল

জি২০ প্রেসিডেন্সির অধীনে অনুসৃত ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে তার বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ পদ্ধতির একটি সম্প্রসারণ, যা বিশেষভাবে সমাজের সব অংশকে, বিশেষ করে দুর্বল অংশগুলোকে যুক্ত করার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। উদাহরণস্বরূপ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কথা বিবেচনা করুন। এটি দেশের সব অংশে সরাসরি নাগরিকদের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সরকারকে সক্ষম করেছে এবং স্বচ্ছ, মসৃণ ও দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে এ লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার স্কিম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়েছে, সঙ্গে রয়েছে ‘জন ধন আধার’ পরিচয়পত্রের ত্রিত্ব, সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট টেলিফোনি রেট ও ‘ব্যাংকিং দি আনব্যাংকেবল’। এ পদ্ধতির মাধ্যমে আগের ৪৮০ মিলিয়ন ‘আন-ব্যাংকড’ ভারতীয় নাগরিক এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী এবং ন্যাশনাল রুরাল ল্যান্ডলেস এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম বা প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ প্যাকেজের মতো কর্মসূচি থেকে সরাসরি সরকারি সুবিধা নেন।

প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা নারীদের জন্য ব্যাপকভাবে উপকারী। কারণ জন ধন অ্যাকাউন্টধারীদের ৫৬ শতাংশই নারী, যার মধ্যে ৬৭ শতাংশ গ্রামীণ ও আধা শহর এলাকায় রয়েছেন। এ সত্য সূক্ষ্মভাবে ভারতের উন্নয়ন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে চিহ্নিত করে। তাই এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে ‘নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন’ ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির একটি প্রধান অগ্রাধিকার। একইভাবে জনস্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রভাবশালী হয়েছে। সিওডব্লিউআইএন প্লাটফর্মের মাধ্যমে দুই বিলিয়নেরও বেশি টিকা আমাদের নাগরিকদের দেয়া হয়েছে। উপরন্তু ‘আয়ুষ্মান ভারত’ হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ সর্বজনীনভাবে অর্থায়িত স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প, যা ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি নাগরিকের জীবনকে স্পর্শ করেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগের ক্ষেত্র হলো স্যানিটেশন ও পানীয় জলের প্রাপ্যতা, যেখানে সারা দেশে ১১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ স্যানিটেশন সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া ১৫০ মিলিয়নের মধ্যে প্রায় ১১০ মিলিয়ন গ্রামীণ পরিবারের বাড়িতেও পানীয় জলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘হর ঘর জল’ উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো প্রতিটি বাড়িতে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। এগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতির কিছু উদাহরণ, যার লক্ষ্য তার সব নাগরিকদের, বিশেষ করে সমাজের দুর্বল অংশের মানুষদের জড়িত করা।

বৈশ্বিক পাবলিক পণ্য

অন্তর্ভুক্তির প্রতিবন্ধকতাটি মোকাবেলা করার মধ্যে রয়েছে যে একটি দেশের প্রত্যেক নাগরিককে জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয়তাগুলো সরবরাহ করা এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা, যে দিকটিতে ভারত ধারাবাহিকভাবে বিশাল অগ্রগতি করছে। বিশ্বব্যাপী জনকল্যাণের জন্য কাজ করা ভারতের বিদেশ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল, যা কভিড-১৯ অতিমারীর সময়ও ছিল স্পষ্ট। ভারত বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মতো ওষুধ সরবরাহ করেছে এবং ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৫০টিরও বেশি দেশে বিতরণ করেছে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ টিকা।

ভারতের উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ গত প্রায় এক দশকে দ্বিগুণ হয়েছে এবং লাইন অব ক্রেডিটের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন থেকে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারে সম্প্রসারণ হয়েছে। অধিকন্তু ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে ভারত তার কিছু অংশীদারের সঙ্গে মানবিক পদক্ষেপ ও দুর্যোগ ত্রাণ প্রসারিত করার ক্ষেত্রে কাজ করেছে। এর মূল অংশে একটি ‘জন ভাগীদারি’ বা জনগণের অংশগ্রহণের পদ্ধতির মাধ্যমে ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সি একটি জনমুখী ইভেন্ট এবং এর কারণে জি২০-এর জন্য দেশের অভ্যন্তরে প্রচুর উদ্দীপনা বিদ্যমান। সেমিনার, সম্মেলন, কুইজ প্রতিযোগিতা, মডেল-জি২০ ও উৎসবের মাধ্যমে জি২০-বিষয়ক ইভেন্টগুলোয় বৃহত্তর জনসাধারণের অংশগ্রহণ, জি২০ প্রেসিডেন্সি প্রক্রিয়ায় স্টেকহোল্ডার হিসেবে তাদের সম্পৃক্ততাকে সহজতর করে।

গ্লোবাল সাউথ

প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জি২০ অর্থমন্ত্রী ও জি২০ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের কাছে তার বক্তব্যে গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করেছিলেন যে জি২০ অবশ্যই বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের নিয়ে আলোচনার দিকে মনোনিবেশ করবে। এ মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন মানসিকতা নিয়েই তিনি ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিট আহ্বান করেছিলেন, যেখানে ভারত জি২০ প্রেসিডেন্সি গ্রহণের পর পরই ১২৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার ও মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতন্ত্রীকরণ ও সংস্কার গত কয়েক বছরে ভারতের আন্তর্জাতিক আলোচনার একটি মূল বিষয়বস্তু হয়েছে। তাই ভারত তার প্রেসিডেন্সি চলাকালে নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের উদ্দেশ্যে জি২০ সদস্যদের মধ্যে সব বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সৃষ্ট বিশ্ব ব্যবস্থা প্রাচীন হয়ে পড়েছে। এটির আজকের দিনের সমস্যাগুলো সমাধান করার ক্ষমতার অভাব রয়েছে এবং তাই বিশ্বের চোখে তা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এভাবে ভারত এমন সময়ে আশার বাতিঘর হিসেবে আবির্ভূত হয়।

প্রধানমন্ত্রী মোদি যেমনটা বলেছেন, ‘ভারত তার সহযাত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের উন্নয়নযাত্রায় যেকোনো উপায়ে সাহায্য করতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক। আমাদের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছার এবং আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমাদের অভিজ্ঞতা, জানার উপায় ও সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে ভারত আনন্দিত।’

এখন প্রয়োজন হলো ‘সহজ, পরিমাপযোগ্য ও টেকসই সমাধান’ শনাক্ত করা, যা আমাদের সমাজ ও অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে রূপান্তর করতে পারে। অন্তর্ভুক্তিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং সবাইকে বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ভারত উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছে নেতৃত্ব দেয়ার অর্থ কী। এমন একটা সময়ে যখন বৈশ্বিক মাত্রার একাধিক সংকট আমাদের সবাইকে প্রভাবিত করছে, তখন বসুধৈব কুটুম্বকমের বোধকে বাঁচিয়ে রাখার গুরুত্ব এর চেয়ে বেশি সংকটপূর্ণ ছিল না।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির প্রধান সমন্বয়কারী। এর আগে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। ভারতীয় ফরেন সার্ভিসের চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান ও ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে ভারতের কনসাল জেনারেলও ছিলেন। এছাড়া তিনি একজন অভিজ্ঞ বহুপক্ষীয় কূটনীতিবিদ, যিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দুই মেয়াদে কাজ করেছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ভারতীয় মিশনে এবং ইউএনইএসসিএপির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন।