একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় একটি খেয়া নৌকাই চলাচলের একমাত্র উপায়। ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরে আর খবর রাখেন না কেউই। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ইছামতী নদীর এক পাশে উলাইল ইউনিয়ন ও অন্য পাশে রয়েছে আরুয়া ইউনিয়ন। নদীর দুই পাশেই রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, পাটুরিয়া ফেরিঘাট, ফায়ার স্টেশনসহ বহু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। সেতু না থাকায় যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নদীর দুই পাশের লক্ষাধিক মানুষ। বছরের বেশির ভাগ সময়ই একটি মাত্র খেয়া নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের। আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের লম্বা সাঁকো নির্মাণ করা হয়। সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসী জানায়, রাতের বেলায় খেয়া নৌকা থাকে না। মধ্যরাতেও বিপদ-আপদে খেয়া পাওয়া যায় না। তখন রোগী আনানেয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে মহাবিপাকে পড়তে হয়। পারাপারের অসুবিধার কারণে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। সেতু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। মাচাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনায়েম মোন্তাকিম রহমান অনিক বলেন, ইছামতী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। সেতু হলে হরিরামপুর উপজেলা সদর ও মাচাইনের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে।

আর উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবর অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবারই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

মানিকগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুল হক বলেন, প্রস্তাবিত জায়গাটি এলজিইডির গ্রামীণ অবকাঠামোর সড়ক নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত না থাকায় এতদিন সেতুটি নির্মাণ করা যায়নি। তবে এরই মধ্যে আমি জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। শিগগিরই সেখানে একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হবে।