প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশের ভিসা দেয়া শুরু হয়। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের তরফে জানানো হয়, তারা শিগগিরই বাংলাদেশীদের জন্য সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম চালু করবে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে দ্বিপক্ষীয় কূটনেতিক সম্পর্কের অবনতির মধ্যে গত ডিসেম্বরে দুই দেশই ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সেটি আবার চালু হলো।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস এবং ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল মানুষ, সেসময় মিশনে ঢিলও ছোড়া হয়। এরপর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম ২১ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

পরদিন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আসার আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার পর বিকালে তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই ফোনালাপে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার কাজে সমর্থনের দেয়ার কথা বলেন।

অন্যদিকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। তবে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি শপথ অনুষ্ঠাতে আসতে পারবেন না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়। তবে মোদির পরিবর্তে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মকালে সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শিগগিরই ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ ফিরবে।

তার এ ঘোষণার পরদিনই দিল্লিতে ভিসা ও কনস্যুলার সেবায় ফিরল বাংলাদেশ হাইকমিশন।