মহামারী করোনায় মৃত্যুর সারিতে রাজধানী ঢাকার পরই খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলার অবস্থান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবমতে, সংক্রমণের পর থেকেই ঢাকা বিভাগে শনাক্তের সংখ্যা ও মৃত্যু দুটোই বেশি। দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার হারও বেশি। একক জেলা হিসেবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত। তবে সংখ্যার দিক থেকে মৃত্যু অনেক বেশি হলেও শনাক্ত রোগীর সংখ্যার বিপরীতে ঢাকায় মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।
করোনার শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় ঢাকা জেলায় করোনায় মৃত্যুহার ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। আর কুষ্টিয়ায় এ হার ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে বিভাগভিত্তিক হিসাবে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ আর খুলনা বিভাগে এ হার ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
এদিকে কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২৩ জন। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ২০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৮৮ জন। কুষ্টিয়ায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩০৫ জন এবং মারা গেছে ৩২৮ জন।
গত এক সপ্তাহে (৩-১০ জুলাই) সবচেয়ে বেশি ৪০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। তবে জেলাওয়ারি হিসাবে গত এক সপ্তাহে করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা জেলায়। ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জেলায় এ সময়ে মারা গেছে ১৬১ জন। আর এ এক সপ্তাহে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০১ জন মারা গেছে কুষ্টিয়ায়।
স্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের কয়েকটি জেলায় করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঘটেছে ব্যাপকভাবে। ভারতীয় এ ডেল্টা ধরন খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলায় তীব্রতম হয়ে দেখা দিয়েছে। খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও কুষ্টিয়া তার অন্যতম। জেলাগুলোর সীমান্ত সংলগ্নতা, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ প্রভৃতি কারণে করোনার ভারতীয় ধরন জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা পরিস্থিতি স্বীকার করে বলেছেন, কুষ্টিয়া জেলা এখন একটি উদ্বেগের নাম। করোনার ডেল্টা ধরন এখানে পুরোমাত্রায় সক্রিয়। তিনি বলেন, যদি আরো বেশি নিবিড় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।










