চুয়াডাঙ্গার বড়বাজারে জবাই করা পশু ও মাছ-মুরগির রক্ত-বর্জ্য পচে মাথাভাঙ্গা নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। এসব রক্ত-বর্জ্যের দুর্গন্ধে ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ নদীর দুই পাড়ে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে বসবাসকারীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্থানীয় পৌরসভা ও সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি স্থানীয়রা শ্বাসকষ্ট, পেটের পীড়া, চর্মসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। 

মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের মাছ-গোশত, সবজি ও মুদি বাজার। প্রবেশমুখেই প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার পান বিক্রির হাট বসে। প্রধান সড়কের পাশে বসে মৌসুমী ও বিদেশী ফলের বাজার। এ বাজারে বিশেষ করে গোশত পট্টিতে রয়েছে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। একটি মাত্র ড্রেন দিয়ে শহর ও বাজারের ময়লা পানি, রক্ত-বর্জ্য গিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে পড়ছে। ফলে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। দূষণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর কোলঘেঁষে চারদিকে পড়ে থাকা বর্জ্য কাক, শকুন ও চিল ঘাঁটাঘাঁটি করায় আরো দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মাথাভাঙ্গা নদীতীরের বাসিন্দা ফুলবানু, মহর আলী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী অভিন্নভাবে বলেন, ‘‌নদীর দূষিত পানিতে গোসল করার কারণে গায়ে চুলকানি হচ্ছে। পানিতে কাপড়চোপড় কাচলেও দুর্গন্ধ থেকে যায়। দুর্গন্ধের কারণে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যায় না। দিনে ও রাতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। রোগব্যাধি কাটেই না। ৩০ বছরের অধিকাল এ অবস্থা চলছে। বাতাসে এত দুর্গন্ধ যে বসবাস করাই আমাদের দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

বড়বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কালু ও সবজি বিক্রেতা ইমতিয়াজ জানান, কসাইখানায় পর্যাপ্ত পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর জবাই করা পশুর রক্ত ও হাড় এবং ফেলে দেয়া গোশত, মুরগির নাড়ি-ভূড়ি পচে দুর্গন্ধ আরো বাড়ছে। বাজারে এত দুর্গন্ধ যে ব্যবসা করা যাচ্ছে না, সেই সঙ্গে ক্রমেই ক্রেতা কমে যাচ্ছে।

বড়বাজারের ক্রেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘‌এ বাজারে এত দুর্গন্ধ এখানে বেশি ক্ষণ দাঁড়ানোই দুরূহ ব্যাপার। কেনাকাটা করতে এসে অস্বস্তিতে পড়তে হয়।’

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহ আলম জানান, এ বাজারে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন। বাজারের বর্জ্য সরানোর ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে বলতে গেলে হাট ইজারাদারদের রোষাণলে পড়তে হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস নিয়েই আমাদের ব্যবসা করতে হয়। ফলে রোগের সঙ্গে আমাদের বসবাস বলতে গেলে চলে।’

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাত হাসান বলেন, ‘‌জবাই করা পশুর বর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না। এটা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ নদীর পানি ব্যবহার করলে বিভিন্ন বড় ধরনের রোগ হতে পারে। তবে চামড়ার রোগ হবেই। যারা প্রবহমান নদীর পানি দূষণের সঙ্গে জড়িত তাদের সচেতন করতে হবে। এতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে নদী দূষণকাজে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভুইয়া বলেন, ‘এটি পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত একটি বাজার। পৌরসভায় বসবাসরত বেশির ভাগ মানুষ এ বাজার থেকে কেনাকাটা করে। চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের যে গন্ধ সেটা আমরা ঠিকমতো ব্যবস্থা করতে পারছি না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটা প্রস্তাব পেয়েছি। এখান থেকে বাজার ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলবে। সেটা পেলে এ ব্যাপারে কাজ শুরু হবে।’