গ্যাসের অপচয় রোধ, গ্রাহক সাশ্রয়ী এবং সিস্টেম লস কমাতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (তিতাস)। তবে গ্রাহক বিবেচনায় চলছে খুব ধীরগতিতে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনে গতি আনতে এবার সাড়ে ১২ লাখ মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। বৃহৎ এ প্রকল্পে সহায়তা করবে জাপান ও এডিবি। জ্বালানি বিভাগ থেকে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিতাস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সাড়ে ১২ লাখ প্রিপেইড মিটার প্রকল্পে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) সাত লাখ এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (এডিবি) সাড়ে পাঁচ লাখ মিটার স্থাপনে অর্থায়ন করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তিতাসের আবাসিক গ্রাহকের অর্ধেকের বেশি প্রিপেইড মিটার সুবিধার আওতায় আসবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে তিতাসের।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী ইকবার মো. নুরুল্ল্যাহ বণিক বার্তাকে বলেন, দ্রুত প্রিপেইড মিটার স্থাপনে অনেকগুলো প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তবে বড় আকারে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে বিদেশী সংস্থাগুলোর অর্থায়ন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদি সেগুলো পাওয়া যায় তাহলে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিতাসের ৫০ শতাংশের বেশি গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের সুবিধা নিতে পারবে।
তিতাস সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক গ্রাহকদের দ্রুত প্রিপেইড মিটার সুবিধা দিতে দুটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ‘ইনস্টলেশন অব ৫ দশমিক ৪৯ লাখ প্রিপেইড মিটার ফর টিজিটিডিসিএল’ প্রকল্পের আওতায় সাড়ে পাঁচ লাখ এবং ‘ইনস্টলেশন অব ৭ লাখ প্রিপেইড মিটার ফর টিজিটিডিসিএল’ প্রকল্পের আওতায় সাত লাখ। মোট সাড়ে ১২ লাখ গ্রাহকের আঙিনায় এই মিটার বসানো হবে। এ প্রকল্পগুলোতে কী পরিমাণ অর্থায়ন করবে সংস্থা দুটি সে বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে প্রকল্প দুটির পিডিপিপি অনুমোদনের জন্য জ্বালানি বিভাগ চলতি বছরের মে ও জুনে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠায়। বর্তমানে প্রকল্প দুটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিতাসের মহাব্যবস্থাপক ও প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ফয়জার রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, তিতাসের আওতাধীন আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে এরই মধ্যে তিন লাখের বেশি গ্রাহক প্রিপেইড পাচ্ছেন। বড় প্রকল্পের মাধ্যমে বাকি গ্রাহকদের প্রিপেইড সেবার আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরে খোলা বাজার থেকে প্রিপেইড মিটার ক্রয় করার সরকারি সিদ্ধান্তও রয়েছে।
এর আগে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জাইকা) সহায়তায় দুই লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ শেষ করে তিতাস। প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রিপেইড মিটার পেয়েছে তিতাসের গ্রাহকরা। বর্তমানে জাইকার সহায়তায় আরো ১ লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে জাপান থেকে ১৯টি লটে মোট ১ লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড মিটার দেশে এসেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৬ হাজার মিটার স্থাপনের কাজ শেষ করেছে সংস্থাটি। বাকি মিটার স্থাপনের কাজ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ করতে চায় তিতাস।
গ্যাস বিতরণের বড় কোম্পানি হিসেবে নিয়োজিত তিতাসের আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ২৮ লাখ ৫৫ হাজার ৩০২ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রিপেইড মিটার সেবার আওতায় আসছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ গ্রাহক, যা মোট গ্রাহকের মাত্র ১০ শতাংশ। বাকি ৯০ শতাংশ গ্রাহক এখনো প্রিপেইড মিটার সেবার বাইরে।
তিতাসের আওতাধীন যেসব আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন তার ৮০ শতাংশই রাজধানীতে। যারা প্রিপেইড মিটার পেয়েছেন তারা বলছেন, পূর্বের গ্যাস বিলিং সিস্টেমের চেয়ে বর্তমানে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে তাদের ৪০-৫০ শতাংশ খরচ কমে এসেছে










