গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের অফিসে উভয়ের এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন খবরটি নিশ্চিত করেন।

রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দুটি ছবি ও হোয়াইট হাউজের একটি রেপ্লিকা তুলে দেন। একটি ছবিতে রয়েছেন তারেক রহমানের বাবা এবং বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অন্য ছবিতে রয়েছেন তারেক রহমানের মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই। বিদ্যমান সব চুক্তিই ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হয়, এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, ‘রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিকভাবে প্রযোজ্য এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকলে তা ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে, কোনো বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির কারণে নয়। জ্বালানি আমদানি বিষয়ে কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নেই।’

তিনি জানান, গতকালের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক—বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে এ মুহূর্তে প্রকাশ করা না গেলেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।’

বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে পারে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জ্বালানি আমদানির জন্য বিভিন্ন উৎস বিবেচনা করছে এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস থেকেই তেল সংগ্রহ করা হবে। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—সবগুলোই বিকল্প উৎস হিসেবে খোলা রয়েছে।’

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে সরকারের অগ্রাধিকার হলো স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক বাজার থেকে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ এবং তাদের এ সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য চূড়ান্ত হয়নি।’