সুনামগঞ্জে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে জেলা শহরের শহীদ জগেজ্যাতি পাবলিক লাইব্রেরিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসহাসড়ক যাত্রী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি ও জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসহাসড়ক যাত্রী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর ৭১-এর আশপাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অন্তত শতকোটি টাকার জমি রয়েছে। এসব জমিতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী দখল করে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করেছেন। এগুলো উদ্ধারে মন্ত্রণালয়ের আদেশ থাকা সত্ত্বেও সুনামগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জমি উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বরং এসব স্থাপনা নির্মাণকারীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নিচ্ছেন সওজ বিভাগের লোকজন। উচ্ছেদের নামে রহস্যজনক ভূমিকায় বার বার ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত স্থাপনা উচ্ছেদে না করায় গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে যানজট লেগেই থাকছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ ও সরকারি আদেশ প্রতিপালন না করায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আপ্তাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জমসেদ আলী, উদয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা সবাই হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এসেছেন। এর বিরুদ্ধে সওজ বিভাগ রিট করেছে। হাইকোর্টের আদেশ এলেই দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।