কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করার দায়ে খাদ্য গুদামের পরিদর্শক শাকিল আহমেদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলা খাদ্য গুদামে পরিদর্শক এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ পন্থায় অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বদলি করা হয়েছিল। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহয়ের উপসহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এজাহারে ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে বলা হয়, আসামি শাকিল ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে মুক্তাগাছায় চাকরি করছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তাকে বদলি করা হলেও তিনি দায়িত্বভার হস্তান্তর না করে অনুপস্থিত থেকে গা ঢাকা দেন। এ প্রেক্ষিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে সে বছরের ২২ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সে সময় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সহযোগিতায় গুদামটি সিলগালা করা হয় এবং মজুদের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৮টি খামালের ভেতর অভিনব কায়দায় বস্তা বিন্যস্ত করা হয়েছে।

মুক্তাগাছা এলএসডির বাস্তব মজুদ রেকর্ডপত্র হতে ৩২৮.৯৮০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল, যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, ৫০ কেজি ধারণক্ষম ৩৮০ পিছ খালি বস্তা যার মূল্য ৩০ হাজার ৪শ টাকা এবং ৩০ কেজি ধারণক্ষম ১ হাজার ৪৯৫ খানা খালি বস্তা, যার মূল্য ৮৯ হাজার ৭শ টাকাসহ সর্বমোট ১ কোটি ৭১ লাখ ৯২ হাজার টাকার ঘাটতি পাওয়া গেছে।

এ প্রেক্ষিতে গত ২০ নভেম্বর মুক্তাগাছা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেবেকা সুলতানা রুথী মুক্তাগাছা থানায় ৪০৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করার সুপারিশ করেছেন বাদি আনিসুল।