লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্তে আবু সাঈদ (২২) নামে এক বাংলাদেশী যুবকের মরদেহ ‘উদ্ধার করে নিয়ে গেছে’ ভারতীয় থানা পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাকে বিএসএফের সদস্যরা নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
নিহত আবু সাঈদ বামন দল গ্রামের বেনজির রহমানের ছেলে। তিনি জানান, ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ ফুলকাডাবরী পঞ্চায়েত আমির হোসেন সাঈদের মামা হন। তার মারফত জানতে পেরেছেন, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সাত থেকে আটজন মিলে গরু নিয়ে সীমান্ত পার হচ্ছিলো। বেনজির রহমান বলেন, ‘গরু নিয়ে ফেরার সময় রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ তামাক ক্ষেতে ফেলে রেখে যায় বিএসএফ। পরে আজ শনিবার সকালে মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে।’ দলের অন্যদের ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি বেনজির রহমান।
তবে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজিবি কর্মকর্তা বলছেন, গরু পাচারকারীদের কারণে সীমান্তবর্তী ভারতীয়দের অনেকের তামাক ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই বেশ কয়েকজন ভারতীয় কৃষক তামাক ক্ষেতে বিদ্যুতের তার ছড়িয়ে দিয়ে রেখেছেন। ওই তারে জড়িয়েই আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
ছেলের মৃতদেহ ফেরত আনতে বিজিবির সহযোগিতা চেয়েছেন জানিয়ে নিহত সাঈদের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘ইদানিং বামনদল সীমান্ত দিয়ে প্রতি সপ্তাহেই ভারত থেকে গরু পাচার করে আনা হচ্ছে। এতে বিএসএফের সহযোগিতা রয়েছে। আজ আমার ছেলেকে হত্যা করা হলো। কাল অন্য কারো মায়ের কোল খালি হবে। তাই যে কোনো মুল্যে গরু ব্যবসা বন্ধ করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি।’
রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ফেরত আসলে এবং ময়না তদন্ত প্রতিবেদন দেখে মৃত্যুর ব্যাপারে বলা যাবে।’










