বগুড়ার ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার বহুল আলোচিত মামলার বিচার কাজ শুরু হয়েছে। বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১-এর বিচারক এ কে এম ফজলুল হক’র আদালতে তুফান সরকারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দিলে এই বিচার কাজ শুরু হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুরের বহিস্কৃত শ্রমীক লীগ নেতা তুফান সরকার ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই একই এলাকার এক ছাত্রীকে ভালো কলেজে ভর্তি করে দেয়ার কথা বলে কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ওই ছাত্রীকে তিনি ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ ঘটনা জানাজানি হলে কয়েকদিন পর ২৮ জুলাই তুফানের স্ত্রী আশা ও তার বড় বোন মার্জিয়া হাসান রুমকি মীমাংসার নামে শিক্ষার্থী ও তার মাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে নির্যাতনের পর মা-মেয়ের মাথা ন্যাড় করে ছেড়ে দিলে অসুস্থ্য অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
এরপরের দিন ২৯ জুলাই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলায় তুফান সরকারসহ তার ১০ সঙ্গীর নামে মামলার আসামি করা হয়।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে তুফান সরকার, তার স্ত্রী আশা, শ্বাশুড়ি রুমি খাতুন, স্ত্রীর বড় বোন মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। এসব ঘটনায় তুফান সরকারকে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তুফান বগুড়া কারাগারে আছেন।
ধর্ষণের আলামত সংগ্রহে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ২০১৭ সালের ২ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) অ্যাড. নরেশ মুখার্জি বলেন, বুধবার ছাত্রী ধর্ষণ ও মা মেয়েকে ন্যাড়া করে দেয়া ঘটনার মামলাটির বিচারিক কাজ শুরু হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর তুফান সরকারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু এক আসামি পলাতক থাকায় চার্জ গঠন বিলম্বিত হয়। দুই মাস আগে পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের পর চার্জ গঠন শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
আদালত অভিযোগপত্রে নাম থাকা ১০ জনের বিরুদ্ধেই চার্জ গঠনের আদেশ দিয়েছেন। এই মামলার তুফান সরকার ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন তুফানের স্ত্রী তাছমিন রহমান ওরফে আশা, আশার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান ওরফে রুমকি, আশার মা লাভলী রহমান ওরফে রুমি, তুফানের সহযোগী মো. আতিকুর রহমান ওরফে আতিক, মুন্না, আলী আযম দীপু, মেহেদী হাসান ওরফে রুপম, সামিউল হক ওরফে শিমুল এবং এমারত আলম খান ওরফে জিতু। তুফান সরকার ছাড়া অন্য আসামিরা বর্তমানে জামিনে আছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালিন বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, ধর্ষণের মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান আসামি তুফান সরকারসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ মামলায় চার্জ গঠন করা আসামিরা হলেন তুফান সরকারসহ অন্যান্যরা। অভিযোগ (চার্জ) থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তুফান সরকারের শ্বশুর জামিলুর রহমানকে।










