শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা জেলার জনজীবন। টানা তিনদিন এ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গতকাল সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় এ জেলায়।
মাঝারি এ শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক কর্মজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। গরম কাপড়েও শীতের কাঁপুনি ধরছে। অনেকে রাস্তার পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া তীব্র শীতের হাত থেকে বাঁচতে অনেকে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। দুপুর পর্যন্ত দেখা মিলছে না সূর্যের। এবারের শীত মৌসুমে প্রতিদিন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে। এরই মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড থাকায় প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। জেলাব্যাপী মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। তিন সপ্তাহ ধরে এ জেলায় ক্রমাগত তাপমাত্রা কমছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। তবে গতকাল সকাল ৮টার দিকে সূর্যের দেখা মেলে। প্রতিদিন রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমে হাড় কাঁপানো শীত অনূভূত হচ্ছে। এর ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়ছে। এ আবহাওয়া আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।
৬ জানুয়ারি সকাল ৬টায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারি সকাল ৬টায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি ও সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল কম করছে। যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় পরিবহনের সিডিউল বাতিল করা হচ্ছে। রাস্তাঘাট, হাটেবাজারে জনসমাগম খুবই কম। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বেচাকেনাও কম। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। বাইরে বের হতে না পেয়ে তাদের রোজগারে টান পড়ছে। ভোর থেকে অপেক্ষা করেও মিলছে না কাজ। কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২১ হাজার ১০০টি কম্বল বিতরণের পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান ৩০ হাজার কম্বলের চাহিদা পত্র পাঠিয়েছেন। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন তার তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে ২ হাজার ৮৮৮টি কম্বল কিনেছেন, যা জেলা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।










