২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর। নিজ বাড়ি থেকে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মারুফ জামান। পথেই তুলে নেয়া হয় তাকে। চোখ-মুখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ১৬ মাস নিখোঁজ ছিলেন মারুফ জামান। পরে তিনি ফিরে আসার পর জানা গেল, তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিশেষ এক গোপন স্থানে। যে জায়গা হয়ে উঠেছিল তৎকালীন সরকারের বিরোধী ও সমালোচকদের জন্য বড় এক আতঙ্কের স্থান—আয়নাঘর। 

এ দীর্ঘ ১৬ মাস ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে মারুফ জামানকে, যার বিবরণ তিনি বণিক বার্তাকে দিয়েছেন এভাবে—‘‌আমাকে বন্দি অবস্থায় একটি কক্ষে রাখা হয়। এটাকে কেউ আয়নাঘর বলে। কেউ বলে ব্ল্যাকহোল। বিশেষ এক গোয়েন্দা সংস্থার ১৪ তলা ভবনের পেছনে এর অবস্থান ছিল। এখানে দুটি বিল্ডিং ছিল। প্রতিটি বিল্ডিংয়ে ১০টি করে সেল থাকত। একটিতে টর্চার সেল ছিল। আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দুটি বিল্ডিংয়েই রাখা হয়েছে। আয়নাঘরে নেয়ার পর পরই শুরু হয়ে যায় নির্যাতন। এখানে রুটিন মাফিক টর্চার করা হতো। যখন তাদের প্রয়োজন তখনই টর্চার সেলে নিয়ে টর্চার শুরু করত। এসেই প্রথমে তারা হাতকড়া পরাবে। চোখের মধ্যে তিনপট্টি লাগাবে। তারপর জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে বসিয়ে শুরু হতো নির্যাতন। এভাবে প্রায় ১৬ মাস আমার ওপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন চলেছে।’

আয়নাঘর থেকে যিনিই বেঁচে ফিরেছেন, এসব নির্যাতনের মানসিক আঘাত বা ট্রমা থেকে মুক্ত হতে পারেননি কেউই। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যমতে, আওয়ামী লীগের ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশে গুমের শিকার হয়েছে ২৫৫ জন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৬০ জন গুমের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৯২ জন এখনো নিখোঁজ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে যেমন বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে নানা মাধ্যমে বক্তব্য রাখা লোকজনও। নিখোঁজ দশা থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের অনেকেই পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশকে আয়নাঘরে নেয়া হতো। 

আয়নাঘর থেকে এখন পর্যন্ত যারা বেঁচে ফিরতে পেরেছেন, তাদের অন্যতম লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান। তার ভাষ্যমতে, ‘আয়নাঘরে নির্যাতনের জন্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। বন্দিদের রাখার জন্য দুটি ভবন ব্যবহার করা হতো। নতুন বিল্ডিংয়ে ৮-১০ ফুট আয়তনের ১০টি রুম ছিল। সেখানে গুম হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হতো। আর নির্যাতনের সময় নিয়ে যাওয়া হতো পাশের পুরনো বিল্ডিংয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি)। এ সেলগুলো মূলত কথিত জঙ্গিদের জন্য ব্যবহার হতো। সেই বিল্ডিংয়ে এমন মোট ১০টি সেল ছিল। পরে নিয়মিতভাবে আমাদেরও জেআইসিতে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হতো। ঝুলিয়ে ঘোরানো হতো বন্দিদের। তার পরও আশানুরূপ উত্তর না পেলে চলত হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলার মতো নির্যাতন। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের চিৎকার যাতে বাইরে থেকে শোনা না যায় সেজন্য এগজস্ট ফ্যানের ব্যবস্থা ছিল। এমন বীভৎস বর্ণনা এর চেয়ে বেশি দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। এখানে কাউকে হত্যা করা হয়, কাউকে বা একসময় ছেড়ে দেয়া হয়। নির্যাতন শেষে নিয়ে যাওয়া হয় সেই ছোট্ট রুমে। নির্জন কুঠুরিতে প্রবেশ করতে পারে না সূর্যের আলো। ওই রুমের দেয়ালে অনেকে রক্ত দিয়ে ফোন নম্বর লিখে গেছে। আমাকে দুবার আটক করে নির্যাতন করা হয়। প্রথমবার ক্যু করব বলে ধারণা থেকে গুম করে, যা মিথ্যা ছিল। পরে সাবেক এক সেনাপ্রধানকে সমালোচনা করে দেয়া এক নেতিবাচক পোস্ট শেয়ার করার শাস্তি হিসেবে আমাকে ২০১৮ সালের আগস্টে আটক করা হয়। দেড় বছর নির্যাতনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছাড়া পাই।’

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতা  মাইকেল চাকমা নিখোঁজ হন ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল। সে সময় তার সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে সাংগঠনিক কাজ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে গুমের শিকার হয়েছেন মাইকেল চাকমা। 

এর পর থেকে তার আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত মঙ্গলবার ভোরের দিকে চট্টগ্রামের একটি স্থানে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর তিন মাস তার কোনো খোঁজ ছিল না। পরে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, এতকাল আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন মাইকেল চাকমা। 

মঙ্গলবার ভোরেই আট বছর পর নিজ নিজ বাসায় ফেরেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট আহমদ বিন কাসেমকে মিরপুর ডিওএইচ থেকে তুলে নেয়া হয় এবং এর কিছুদিন পর ২৩ আগস্ট আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে গুম করা হয়েছিল। তাদেরও এতকাল আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তারা। 

তবে প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফেরার ভাগ্য সবার হয়নি। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই এখনো নিখোঁজ। স্বজনদের ধারণা, তাদেরও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। কারণ এসব নিখোঁজ ব্যক্তিকে তুলে নেয়ার ধরন ও আয়নাঘর থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিবরণে অনেক মিল পাওয়া গেছে।  

এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের একজন শামীম আখতার। তাকে যখন তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বণিক বার্তাকে সে সময়টার বিবরণ দিয়েছেন শামীম আখতারের স্ত্রী ঝর্ণা খানম। 

দিনটি ছিল ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। সকাল ৮টা নাগাদ পুরানা পল্টনের ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও খুলনা জেলা কমিটির শামীম আখতার। এমন সময় তার দিকে এগিয়ে আসেন কয়েক আগন্তুক। ‘আপনি শামীম আখতার?’—অপরিচিত এক ব্যক্তির এমন প্রশ্নের উত্তরে সম্মতিসূচকভাবে মাথা নাড়ান শামীম আখতার। প্রশ্নকারী নিজেকে পরিচয় দেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে। এর সঙ্গে সঙ্গে সাত-আটজন মিলে স্কচটেপে তার মুখ আটকে দেন। বেঁধে ফেলেন দুই হাত। ধস্তাধস্তি করেও কোনো লাভ হয়নি। হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় প্রায় ১০০ গজ দূরে দাঁড়ানো মাইক্রোবাস পর্যন্ত হাঁটিয়ে নিয়ে যায় তাকে।  

এ খবর পেয়ে পল্টন থানায় ছুটে যান তার স্ত্রী ঝর্ণা খানম। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়া জিডি দায়ের করা নিয়ে। ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে’ বাক্যটি কেটে দিলেই কেবল জিডি করা হবে বলে শর্তারোপ করেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা। স্বামীকে ফিরে পাওয়ার সেই আশায় সে শর্তও মেনে নেন ঝর্ণা খানম। কিন্তু লাভ হয়নি। একে একে ধরনা দিয়েছেন ডিবি ও মানবাধিকার কমিশনের কাছে। দিনের পর দিন ঘুরেছেন প্রতিষ্ঠানগুলোয়। নিখোঁজের ১৩ বছরে স্বামীর কোনো হদিস পাননি তিনি। কোনো প্রতিষ্ঠানই তাকে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে গত কয়েক দিনে গুম হওয়া তিনজনের ফেরত আসার পর আবারো আলো দেখছেন ঝর্ণা খানম। 

শামীমের গুম হওয়া প্রসঙ্গে ঝর্ণা খানম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌গত দুদিনে গুম হওয়া তিনজন ফেরত এসেছে। এর আগেও দুজন ফেরত এসেছিলেন। ফেরত আসা ব্যক্তিরা বলেছিলেন, ওখানে “‍আয়নাঘর” নামক জায়গায় আটক রাখা হয়েছে। আমরা গুম হওয়া পরিবারগুলোও আয়নাঘর নামক জায়গা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা শুনেছি। তখন শুনতাম, ছোট্ট ওই স্থানে অল্প আলো যায়, মসজিদের আওয়াজ পাওয়া যায়। সেটিই কিন্তু এখন যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে তার সঙ্গে মিল রয়েছে। যারা ফেরত এসেছে তাদের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়েছিল। এটা স্পষ্ট। সুতরাং আমরা বলতে চাই, আমাদের যে স্বজনরা এখনো ফেরত আসেনি তাদের রাষ্ট্র গুম করে রেখেছে। এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গা থেকে তাদের ফেরত আসা নিয়ে সেখানকার দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির বক্তব্য আমরা পাইনি। এটা উৎকণ্ঠার বিষয়। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো আমরা বিশ্বাস করি, এমন জঘন্য কাজ রাষ্ট্রের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে। তাদের অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফেরত দেয়ার দায়টাও রাষ্ট্রেরই।’

গ্রেফতার ও গুমের সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে গুমের ঘটনা বেড়ে যায় ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর। এর পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে হেফাজতে নিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগও বাড়তে থাকে। এমন এক পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ছয় কর্মকর্তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। 

‘‌গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার’ ওই বিধিনিষেধ আরোপের নিখোঁজের সংখ্যা কমেছে বলে দাবি করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, গুমের ঘটনাগুলো থেকে লক্ষ দেখা যায়, বিরোধী দল-মতকে দমিয়ে রাখার জন্যই এ ধরনের গুম সংঘটিত হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা এখন যে গুম নিয়ে কথা বলছি তা মূলত ২০১৪ সাল থেকে বাড়তে দেখা গেছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যখন কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি দেয় তখনই দেখা যায় গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি নির্বাচন ও নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক স্থবিরতা যখন বাড়ে তখন এ ধরনের ঘটনাও বাড়ে। তবে মেজর সিনহা মৃত্যুর পর ক্রসফায়ার বা গুমের ঘটনা শূন্যের কোঠায় ছিল। পাশাপাশি র‍্যাবের ওপর স্যাংশন আরোপের পরও এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায় চলে এসেছিল। এ থেকে একটি বিষয় সন্দেহ করার বিশেষ কারণ আছে যে বিরোধী দল-মতকে দমন করার জন্যই গুম ও খুনকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘এখন যখন চাপ প্রবল হচ্ছে তখন গুম হওয়া দু-একজন করে ছাড়ছে। এখনো ছাড়ার সময় রাস্তায় বা অপরিচিত কোনো স্থানে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। তারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব নিচ্ছে না। গত কয়েক বছরে ছয়শর মতো মানুষ গুম হয়েছে। তাদের অনেকের মরদেহ পাওয়া গেছে। আবার অনেকে অপ্রকৃতস্থের মতো ফেরত এসেছে; কোনো কথা বলেনি। দুই শতাধিক মানুষের এখন পর্যন্ত কোনো হদিস নেই। এদের ব্যাপারে এখন কোনো চূড়ান্ত কথা বলা সম্ভব হবে না। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সূচনার পর গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে হবে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে বিষয়গুলো বের করার। সরকারের এখন স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত।’ 

নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নয় পরিবারগুলো। তাদের মধ্যে মাত্র ১৮ জন ফেরত এসেছে বলে আসকের তথ্যে উঠে এসেছে। তবে সংগঠনটির তথ্যমতে তিনজন হত্যার শিকার হয়েছে। আর মধ্যে ৪৬ জনকে নিখোঁজ হওয়ার পর গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 

আয়নাঘরের মতো জায়গায় মানুষকে এভাবে বছরের পর বছর আটকে রাখা প্রসঙ্গে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আয়নাঘরে গুম করা ব্যক্তিদের এখন ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে আমরা মাইকেল চাকমাকে পেলাম। রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো এভাবে এমন একটি “‍‌প্যারালাল জুডিসিয়ারি সিস্টেম” চালু করেছে, যেটা সম্পূর্ণ বেআইনি প্রক্রিয়া। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে বাংলাদেশের আইনে একমাত্র পুলিশ। গ্রেফতার করার ক্ষমতা বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা পুলিশ ছাড়া আর কারো হাতে নেই। সেনাবাহিনী বা র‍্যাবের হাতে আটক হয়ে অবৈধভাবে সো কল্ড আয়নাঘরে শাস্তি হিসেবে বছরের পর বছর আটক রাখা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে বিষয়টি আমাদের বিচার বিভাগকেও হুমকির মুখে ফেলে। এ পুরো বিষয়টি ঘটার পেছনে কারণ হলো আমাদের রাজনীতি ঠিক ছিল না এবং আমাদের রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক কারণেই এদের দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আয়নাঘরের মতো স্থানে অবৈধভাবে আটকেছেন। বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানাই। এ পর্যন্ত তারা কতজন গুম, খুন করেছে—এ হিসাবগুলো চাইতে হবে। যারা নিহত, ফিরে আসেননি বা ফিরে এসেছেন; প্রত্যেকের বিষয় নিয়ে আলাদা করে তদন্ত করা উচিত এবং তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা উচিত।’