গোপালগঞ্জে বিজিবি সদস্য হিরু মিয়া হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। গতকাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক, অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্বাস উদ্দীন এ রায় দেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবু শামস্ ওরফে শামসুল হক, রওশন, লিয়াকত ও রাজা ফকির। এ মামলায় আরো ১৪ জন আসামিকে খালাস দেয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালে বিজিবি সদস্য হিরু মিয়া ছুটি কাটাতে বাড়িতে আসেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি বাড়ির পাশের মসজিদে নামাজ পড়ে  যাওয়ার পথে কোড়ামারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছলে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা হিরু মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পূর্বশত্রুতা ও জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি  হিরু মিয়ার স্ত্রী জোনাকী বেগম  বাদী হয়ে  কাশিয়ানী থানায় ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৭ বছর পর হত্যা মামলার আসামি কাশিয়ানি উপজেলার কোড়ামারী গ্রামের মৃত মতি শেখের ছেলে আবু শামস্ ওরফে শামসুল হক, মকবুল ফকিরের ছেলে রাজা ফকির, ইসমাইল শেখের ছেলে লিয়াকত শেখ, ছালেক শেখের ছেলে রওশন শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান ও  প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আদালতের বিচারক।

এ মামলায় অন্য ১৪ আসামি চুন্নু ফকির, গিয়াস উদ্দিন, সিদ্দিক শেখ, ফিরোজ শেখ, সেলিম, হাফিজুর রহমান হবি শেখ, শাহ আলম ফকির, নিজাম ফকির, গোলাম রসুল, বাদশা মিয়া, সায়েদ আলী শেখ, মাহমুদ ফকির এবং সালাউদ্দিন শেখকে  খালাস দেয়া হয়।