বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনের অপসারণ চেয়ে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে তারা বিবৃতিও দিয়েছেন। গতকাল বিকালে ববি শিক্ষক সমাজের ব্যানারে এ বিবৃতি দেয়া হয়।
৬৪ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্যের স্বৈরাচারী ও অপেশাদার আচরণ, দুর্নীতি এবং অদক্ষতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে রক্ষায় শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেন শিক্ষকরা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ববিতে শিক্ষক সংকট চলমান। উপাচার্য শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরও গত আট মাসে শিক্ষক নিয়োগ দেননি। এতে শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। উল্টো নিয়ম ভেঙে একের পর এক বিভিন্ন গ্রেডে কর্মচারী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছেন। এসব অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বেতন-ভাতার কাগজে ট্রেজারার স্বাক্ষর না দেয়ায় উপাচার্য একক স্বাক্ষরে তা প্রদান করছেন। উপাচার্যকে নিয়োগপত্রে সব সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করার কথা বলা হলেও তিনি সপ্তাহে দুই-একদিন কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন। বাকি সময় তিনি ঢাকায় থাকেন।
শিক্ষকদের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বর্তমান উপাচার্য যোগদান করার পর ববিতে অর্থ কমিটি বা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির কোনো সভা হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ববির বিভিন্ন ভৌত কাজ ও কেনাকাটার জন্য ৬ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ ছিল। কিন্তু উপাচার্যের অদক্ষতার কারণে প্রায় ১১ মাসে মাত্র ১ কোটি টাকাও ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি তুলে আন্দোলন করলে উপাচার্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করে স্বৈরাচারী সরকারের মতো নিপীড়নের পথ বেছে নিচ্ছেন। তার ফ্যাসিবাদী কাজে বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।










