বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান
এবং তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার আদালতের আদেশকে
‘ফরমায়েশি ও প্রতিহিংসাপরায়ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার
মোশাররফ হোসেন।
আজ শনিবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনের
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বর্তমান ব্যর্থ, দুর্নীতিবাজ,
ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
এই প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির শিকার মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান,
বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক
রহমান তথা জিয়া পরিবার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।’
গত ৫ জানুয়ারি তারেক রহমান ও জোবাইদা
রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দেন আদালত।
আদেশকে ‘ফরমায়েশী এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ’ উল্লেখ
করে এই নেতা বলেন, ‘জরুরি অবস্থার সরকারের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা আওয়ামীলীগ
সরকার নিজেদের মামলাগুলো বিভিন্ন উপায়ে স্থগিত বা প্রত্যাহার
করলেও বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, ডা. জোবাইদা রহমানসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে
১/১১ সরকারের দায়ের করা মামলাগুলো অব্যাহত রেখে সেগুলো ফরমায়েশি রায় দিয়ে তাদেরকে রাজনীতি
ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র করেছে। যা আজও অব্যাহত আছে।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপি এবং চলমান
আন্দোলনকে নেতৃত্বশূন্য করতে প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক অভিযোগে
মামলা ও রায় দিয়ে গোয়েবলসের মতো মিথ্যাচার করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন যেন আজ বিএনপি
দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, যে সকল সম্পত্তির মালিক তারেক রহমান
নন, কোন দলিলে বা চুক্তিতে যেখানে তারেক রহমানের নাম, স্বাক্ষর বা সংশ্লিষ্টতা নাই,
তাকে সেসব সম্পত্তির গায়েবী মালিক বানিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি তারেক
রহমান এবং ডা. জোবাইদা রহমানের কর পরিশোধকৃত সম্পদ নিয়েও কাল্পনিক অভিযোগে মামলা দায়ের
করা হয়েছে।’
আরো বলেন, ‘দেশে বিরাজমান সীমাহীন দুর্নীতির
মহাতাণ্ডব দুদকের চোখে পড়ে না। ২০০০ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন
হবার কলঙ্কের তিলক তৎকালীন আওয়ামী সরকার লাগিয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী সরকারের ছত্রছায়ায়
এবং পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের অনুগত ব্যবসায়ী এবং
নেতাকর্মীরা দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলছে তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ দুদক নেয়
না। জনগণকে বিভ্রান্ত ও আন্দোলন দমন করতে নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আবারো চক্রান্ত শুরু
করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার। আর এই চক্রান্তের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে দুদক।’
তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা, ফরমায়েশি আদেশ ও রায় বাতিল করার দাবি’ জানিয়ে বক্তৃতা শেষ করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।











