জোয়ারের কারণে বাগেরহাটের পানগুছি নদীর পানি বেড়েছে। চারদিন ধরে মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাটের পূর্ব পাশের পন্টুনের সংযোগ সড়ক বেশির ভাগ সময়ই ডুবে থাকছে। শুক্রবার দুপুরে জোয়ারে সড়কটি ডুবে যায়। ২ ঘণ্টার বেশি সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে। রাত ১টার দিকে আবারো জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় সংযোগ সড়কটি। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা। দ্রুত সংযোগ সড়কটি উঁচু করে ভোগান্তি নিরসনের দাবি জানিয়েছেন যানবাহনচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইউনুস শেখ নামে এক পিকআপচালক বলেন, ‘জোয়ারের পানি বাড়লেই ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক ডুবে যায়। ফেরিতে উঠতে গিয়ে আমাদের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। লবণ পানিতে গাড়ির ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে।’
বুলু নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘গেল চারদিন জোয়ারে ২-৩ ঘণ্টা ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকছে সংযোগ সড়কটি। ফেরি পারাপারে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় পানিতে ভিজে যেতে হয়। আবার সড়কের গর্তের মধ্যেও পড়তে হয়। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার।’
আবু রাজ্জাক নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি বাড়লেই ডুবে যায় ফেরির সংযোগ সড়ক। আসলে এর একটা স্থায়ী সমাধান দরকার। আর কতদিন মানুষ ভুগবে। যেভাবে হোক ফেরি চলাচল, ফেরিতে মানুষ ওঠানামা ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হবে।’
তবে সড়ক বিভাগ বলছে, নদীতে সবসময় একই পরিমাণের পানি থাকে না, কখনো অনেক বেশি, আবার কখনো অনেক কম থাকে। এ কারণে সংযোগ সড়ক বেশি উঁচু করা যায় না।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জোয়ারের পানির বিষয়টি মাথায় রেখে সংযোগ সড়ক যদি অনেক উঁচু করা হয়, তাহলে ভাটার সময় পন্টুনে যানবাহন ও পথচারীদের ওঠানামায় সমস্যা সৃষ্টি হবে। জোয়ার ও ভাটা দুটি বিষয় মাথায় রেখে সংযোগ সড়ক ও পন্টুন তৈরি করতে হয়। জোয়ার ও ভাটার কারিগরি বিষয় মাথায় রেখে সংযোগ সড়কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বেড়ে যে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’










