যেকোনো সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পের সুফল নেয়া হয়। কিন্তু দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেলপথ উদ্বোধনের চার মাস পেরিয়ে গেলেও ট্রেন চলছে মাত্র দুটি। ঢাকা থেকে সরাসরি যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেন দুটিতে দোহাজারী কিংবা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি। এ কারণে স্থানীয় যাত্রীরা ট্রেন ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছে না।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে চলছে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুটি বিরতিহীন ট্রেন। শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে একটি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালুর কথা থাকলেও টিকিটের বিপুল চাহিদার কারণে দ্বিতীয় ট্রেনটিও ঢাকা থেকে চালু করে রেলওয়ে। প্রথম পর্যায়ে শুধু ঢাকার যাত্রীরা বিরতিহীন কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ রাখা হলেও নানামুখী সমালোচনার মুখে প্রতিটি ট্রেনে চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য দুটি কোচ বরাদ্দ রাখা হয়। এ দুটি কোচের মোট আসন সক্ষমতা মাত্র ১১৫টি। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীদের জন্য বিরতি ও আসন বরাদ্দের আবেদন করা হলেও সেটি আমলে নিচ্ছে রেলওয়ে প্রশাসন।

দোহাজারী পৌর মেয়র মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একসময় এ রেলপথে প্রতিদিন ১০ জোড়ার বেশি ট্রেন চলাচল করত। সরকার দোহাজারী থেকে রেলপথ সম্প্রসারণ করে কক্সবাজারে ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে। কিন্তু কোনো ট্রেনেই দোহাজারীসহ স্থানীয় বিভিন্ন স্টেশনের জন্য টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়নি। একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে কষ্ট স্বীকার করলেও প্রকল্পের সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে একাধিকবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করা ট্রেনগুলোকে স্থানীয় মানুষের জন্য আসন বরাদ্দ দিতে চাই। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ না হওয়া, কালুরঘাট সেতুর মেরামত কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন কোনো ট্রেন সার্ভিস দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঈদে এ রুটে চট্টগ্রাম থেকে একটি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালানো হবে। সিগন্যালিং সিস্টেম কার্যকর হলে চট্টগ্রামগামী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনকে কক্সবাজার পর্যন্ত রুট বর্ধিতকরণ ছাড়াও পুরনো বেশ কয়েকটি দ্বিতীয় শ্রেণীর ট্রেন এবং কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু করা হবে।’