ছাত্ররাজনীতি থেকে সরাসরি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি বলে মনে হয়েছে?

এ মন্ত্রণালয়কে আমার কাছে খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়নি। কারণ ছাত্ররাজনীতির সময় থেকেই জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করেছি। পাশাপাশি প্রবাসী অধিকার পরিষদ নামে একটি সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় প্রবাসীদের সমস্যা সম্পর্কেও আগে থেকে ধারণা ছিল। প্রবাসীদের প্রত্যাশা খুবই স্বাভাবিক। পাসপোর্ট করা থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মানের সঙ্গে যাতায়াত এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোয় সমস্যা নিয়ে গেলে আন্তরিক সেবা পাওয়া—এসবই তাদের প্রধান চাওয়া। সেদিক থেকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমার কাছে খুব বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে হচ্ছে না।

তবে সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি সত্যিকার অর্থেই চ্যালেঞ্জিং। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শ্রমবাজারের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আমাদের এখনো নেই। এ ধরনের দক্ষ মানুষের সংখ্যাও দেশে তুলনামূলক কম। তাই প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি করে বিদেশে পাঠানোই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হলে এ চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবেলা করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

দায়িত্ব নেয়ার প্রায় ছয় মাসে প্রবাসীদের সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমরা ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর কাজ করছি। আগস্টের মাঝামাঝি এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। শুরুতে কার্ডটির মাধ্যমে ১০টি বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে, যা পরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে সহজে পাসপোর্ট করা, বিমানবন্দরে আলাদা ইমিগ্রেশন কাউন্টার, ভূমিসংক্রান্ত কাজে সাতদিনের মধ্যে ফাস্ট ট্র্যাক সেবা, প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার ও ছাড়ে চিকিৎসা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রবাসীদের জন্য হেল্প ডেস্ক এবং বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহনসেবা।

কার্ডটি বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ে আর্থিক প্রণোদনা বর্তমান আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের মরদেহ পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা তিনটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল, সেসব দেশেও বাজার সম্প্রসারণে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে।

বাংলাদেশের শ্রমবাজার মূলত সৌদি আরবকেন্দ্রিক এবং সেখানে যাওয়া কর্মীদের বড় অংশই অদক্ষ। নতুন কোন কোন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে?

আমাদের প্রবাসী কর্মীদের বেশির ভাগেরই গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং জীবনযাত্রার মিলের কারণে ৭৫-৮০ শতাংশ কর্মী এ অঞ্চলে যান, যার অর্ধেকের বেশি সৌদি আরবে। সম্প্রতি কিছু বাংলাদেশী এজেন্ট বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বেশি কর্মী পাঠিয়েছে। ফলে অনেকে সেখানে গিয়ে কাজ ও আকামা পাচ্ছেন না। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ভিসা যাচাই কঠোর করা হচ্ছে, যাতে ভুয়া ভিসায় কেউ অনুমোদন না পান। বাহরাইনে বন্ধ শ্রমবাজার খোলা এবং ওমান-আরব আমিরাতে কর্মী প্রেরণ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মধ্যপ্রাচ্য সফর এক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করছি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন, আলেম-ওলামাদের কারাবরণ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যুদণ্ডসহ নানা ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। এর ফলে ওই সময় বাংলাদেশের সঙ্গে এসব দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হয়, যার প্রভাব ভিসা ও শ্রমবাজারেও পড়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতের কারণে সৃষ্ট শ্রমিক সংকটে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জাপানে এক লাখ বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর সমঝোতা থাকলেও বর্তমানে দেশটিতে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কম। এছাড়া ইউরোপের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দেশের ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।

মানব পাচার, প্রতারণা ও নিরাপত্তাঝুঁকির অভিযোগ থাকার পরও রাশিয়া, কম্বোডিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশে কর্মী পাঠানোর ছাড়পত্র কেন দেয়া হচ্ছে?

কম্বোডিয়া ও লাওসের স্ক্যাম সেন্টারে বাংলাদেশীদের আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনা আমরা জেনেছি। এসব প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে কিছু অনিয়মের কারণে পুরো শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়া সমাধান নয়। যেখানে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কর্মীরা যেন সঠিক প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন এবং কোনো ধরনের দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।

লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ব্রাজিলসহ যেসব দেশে গিয়ে বাংলাদেশী কর্মীদের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেসব দেশে কর্মী পাঠানোর আগে কর্মস্থল সরজমিনে যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ২৫২টি লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধ পথে কর্মী পাঠানো, মানব পাচারের মতো অপরাধ ঘটছে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে। এজেন্সি কমানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স থাকলেও অনেকে নামে-বেনামে একাধিক লাইসেন্স ধরে রেখেছেন। প্রকৃতপক্ষে সক্রিয় এজেন্সির সংখ্যা হয়তো চার-পাঁচশ। মন্ত্রণালয়ের বিধিতে এজেন্সিগুলোকে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এ, বি ও সি—তিন ক্যাটাগরিতে গ্রেডিংয়ের বিধান রয়েছে। আমরা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তবে এখানে নানা বাধা রয়েছে। কেউ কেউ মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে বা রাজনৈতিকভাবেও অপপ্রচার চালায়। মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ আগেই নেয়া প্রয়োজন ছিল। আমরা কাজটি শুরু করেছি, তবে কতটা করতে পারব, সেটি এখনই বলা কঠিন। কারণ এ খাতে বিপুল নগদ অর্থের লেনদেন হয়। কর্মীপ্রতি টাকা নেয়া হয়। ফলে শৃঙ্খলা আনতে গেলেই নানামুখী প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেয়া প্রায় ২৫০টি লাইসেন্সের অধিকাংশই তদবিরের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে বলে আমার ধারণা। আমরা এখন পর্যন্ত নতুন কোনো লাইসেন্স অনুমোদন করিনি। তবে সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারীদের সুযোগ দেয়া এবং অস্তিত্বহীন বা নিষ্ক্রিয় লাইসেন্স বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে রাশিয়ার যুদ্ধে কর্মী পাঠানোর দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল এবং মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে জড়িত ৪৯টি লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফেসবুকে প্রবাসী নিয়োগ বা ভিসার ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই প্রতারক চক্রের অংশ। কোনো এজেন্সি বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে আগে মন্ত্রণালয়ে কর্মীর চাহিদাপত্র জমা দিতে হবে। যাচাইয়ের পর অনুমোদন পেলে তারা বিজ্ঞাপন দিতে পারবে। ভুয়া বিজ্ঞাপন ও প্রতারণা বন্ধে বিএমইটির ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, সাগরপথে ইউরোপযাত্রায় বাংলাদেশীরা শীর্ষে। মানব পাচার ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ কী?

এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক। যারা এভাবে যান, তারা দরিদ্র নন—১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করতে পারা মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ, যারা জীবনের ঝুঁকি জেনেও ভাগ্য বদলাতে চান। আমাদের পক্ষ থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং যেসব অঞ্চল থেকে এ প্রবণতা বেশি, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ কার্যক্রম নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে অভিবাসন ব্যয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অন্যতম সর্বোচ্চ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন-পাঁচ গুণ বেশি। দালাল চক্র ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির দৌরাত্ম্য কমাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কি?

অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে যান, তাদের যেভাবে টাকা খরচ হয় অন্য দেশে এ রকম হয় না। তাই আমরা সব দেশের জন্য, বিশেষ করে যেসব দেশে বাংলাদেশী কর্মী বেশি যান—একটি স্ট্যান্ডার্ড ব্যয়ের মানদণ্ড ঠিক করে দিচ্ছি। এজেন্সিগুলো যেন এ নীতি মেনে চলে, আমরা সে বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করব। এছাড়া সাধারণ মানুষকেও আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দেব যে কোন দেশে যেতে কত টাকা খরচ হওয়া উচিত।

বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর জনবল, কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিক না করে নতুন ৫০টি কেন্দ্র স্থাপন কি পুরনো পথেই হাঁটা নয়?

না, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে সরকার এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ করবে। যুবসমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা এক ধরনের, আর বিদেশের জন্য একটু ভিন্ন ধরনের জ্ঞান বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। সেই কাজকে আরো বিস্তৃত করতে সরকার নতুন করে আরো ৫০টি উপজেলায় ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণ করবে। এটা হলে উপজেলা পর্যায়ের তরুণ-যুবকরা সহজে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাবে, বিদেশ যাওয়া সম্পর্কে জানতে পারবে।

বর্তমানে যে ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু আছে, সেগুলোর সবক’টির মান হয়তো এক নয়। আমরা এরই মধ্যে এগুলোকে তিনটি গ্রেডে ভাগ করেছি। যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করছে, সেগুলোকে আমরা আরো আধুনিক ও সুসজ্জিত করছি। দ্বিতীয়ত, যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা বা কোর্সের দুর্বলতা রয়েছে, সেখানে বিশেষ নজর দিচ্ছি, যাতে সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা যায়। তাদের কোর্সগুলো আমরা রিভাইজ করছি এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে যেসব কাজের চাহিদা রয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই সেখানে কোর্স পরিচালনার ব্যবস্থা নিচ্ছি।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রবাসীদের জন্য পৃথক হাসপাতাল নির্মাণের যে পরিকল্পনা করেছিলেন তার অগ্রগতি কী?

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের গুলশান-ভাটারায় থাকা জায়গায় হাসপাতালসহ একটি ক্যাম্পাস করার প্রস্তাব এরই মধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বাস্তবতা যাচাইয়ের জন্য। কারণ এ ধরনের নির্মাণকাজের নিজস্ব দক্ষতা আমাদের মন্ত্রণালয়ের নেই। গণপূর্তের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রবাসীবান্ধব ও স্বচ্ছ শ্রমবাজার গড়তে আপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?

আমরা তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। প্রথমত, যারা বিদেশ যাচ্ছেন তারা যেন হয়রানিমুক্ত ও দ্রুততম সময়ে সেবা পান। দ্বিতীয়ত, তারা যেন যথাযথ দক্ষতা নিয়ে উপযুক্ত কর্মে নিয়োজিত হতে পারেন। তৃতীয়ত, প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। এর অংশ হিসেবে গুলশান-ভাটারায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবাসীদের জন্য ২০০-৩০০ জন থাকতে পারেন, এমন একটি ডরমিটরি নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। প্রবাসী শিক্ষার্থীদের এসএসসি থেকে গ্র্যাজুয়েট পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।