বাংলাদেশের মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা দিবে নেদারল্যান্ডস সরকার। দেশটি বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর জলজ চাষ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ‘ফুডটেকবাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ময়মনসিংহের তারাকান্দায় গত ২১ জুলাই অ্যাকুয়াকালচার সেন্টার অব এক্সেলেন্স (সিওই)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস এবং ফিশটেক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউল করিম ভূঁইয়া।
এতে সভাপতিত্ব করেন ফিশটেক বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেন। উদ্বোধনী পর্বে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অ্যাডমিন) এসএম রেজাউল করিম, সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, দাতা সংস্থা, গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাছচাষিসহ মোট ২০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, বাংলাদেশে ডাচ ডায়মন্ড কর্মপন্থা প্রয়োগের একটি চমৎকার উদাহরণ হলো ফুডটেকবাংলাদেশ। এই সেন্টার অব এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কৃষকেরা ব্যাপকভাবে ‘প্রযুক্তিগত চাষাবাদ পদ্ধতি’ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রয়োগ করতে পারবেন। এর ফলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। এজন্য এই খাতে আমরা গত কয়েক বছর ধরে সহযোগিতা দিয়ে আসছি।
প্রধান অতিথি ড. মো. খালেদ কনক বলেন, স্বল্প ভূমি ব্যবহার করেও উচ্চ উৎপাদনশীলতা অর্জন করা সম্ভব। নেদারল্যান্ডস সরকার এইক্ষেত্রে একটা বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি সরকারি সহায়তা ও উপযুক্ত প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই সেন্টার অব এক্সেলেন্স একটি ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে মাছ চাষের আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ ও মৎস্য খাতের বাজার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘ফুডটেকবাংলাদেশ’ এর সামগ্রিক কার্যক্রমের আওতায় এরই মধ্যে ৬০টিরও বেশি পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং ৮০০ জনের বেশি কৃষককে অনলাইনে ও প্রায় ৬০০ কৃষককে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
‘ফুডটেকবাংলাদেশ’ ২০২২ সালে একটি পাঁচ বছর মেয়াদি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বমূলক (পিপিপি) কর্মসূচি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। কর্মসূচিটি বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহ-অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং বাস্তবায়ন করছে আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট প্রতিষ্টান লারিভ ইন্টারন্যাশনাল ও লাইটক্যাসল পার্টনার্স। এতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বেসরকারি খাতের অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জেমিনি সি ফুড, ফিশটেক, ভিকন ও ডি হিউজ। এসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল খামার ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী বাজার সংযোগ তৈরির মাধ্যমে জলজ চাষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে লারিভ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার রোহিয়ার বেকার, ফিশটেক বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার ইমরান হোসেন এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম এসব বিষয়ক উপস্থাপনা প্রদান করেন।










