বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চলতে পারবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কেবল অনুমোদিত বাসই সড়কে চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন আদালত। মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে স্লিপার বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা রিটের শুনানিতে গতকাল বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মো. মুরাদ-এ-মাওলার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন।

শুনানিতে বিআরটিএর পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন চলতে পারে না। আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী কারিগরি বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করলে ৮৪ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর ২৮ ধারায় রুট পারমিট ছাড়া যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। স্লিপার বাস চলাচলের কোনো পৃথক সরকারি অনুমোদনও নেই বলে আদালতকে জানানো হয়।’

মালিক পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত স্লিপার বাস রয়েছে ৬২৬টি। আরো প্রায় ২০০টি নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যা প্রায় ৮২৯টি। তবে বিআরটিএর বিদ্যমান নীতিমালায় ‘স্লিপার বাস’ নামে কোনো পৃথক শ্রেণী নেই। এসব বাসকে মূলত ‘অমনিবাস’ বা ‘লাক্সারি বাস’ হিসেবে নিবন্ধন ও রুট পারমিট দেয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৭ সালে ভারত থেকে প্রথম চারটি স্লিপার বাস বাংলাদেশে আসে। এরপর বিআরটিএর বিভিন্ন সার্কেল থেকে স্লিপার কাঠামোর ছবি সংযুক্ত করে এসব বাসের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ দেয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন অনুমোদিত শ্রেণীর আওতায় চলাচল করলেও বর্তমানে এসব বাসের কাঠামো ও অনুমোদনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে সিঙ্গেল ডেক বাসের কাঠামো পরিবর্তন করে স্লিপার বাসে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বডি টেম্পারিং হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিআরটিএর সঙ্গে মালিকপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এদিকে ২০২৩ সাল থেকে বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা স্লিপার বাসের কাঠামো ও চলাচলসংক্রান্ত পৃথক নীতিমালা তৈরির কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন স্লিপার বাস মালিকরা।

এ প্রসঙ্গে স্লিপার বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আহসান ইকবাল জিতু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৮২৯টি স্লিপার বাসের মধ্যে মাত্র আটটি বাসকে অনুমোদনে চরম অনিয়ম করে দোতলা বাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মালিক সমিতি ওই আটটি বাস বন্ধের পক্ষে। তবে পুরো খাত বন্ধ না করে বুয়েটের টেকনিক্যাল রিপোর্ট ও বিআরটিএর নতুন নীতিমালার আলোকে বিষয়টির সমাধান করা উচিত।’