বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে র‌্যাগিংয়ের সংবাদ সংগ্রহ করার সময় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  কলেজের অধ্যক্ষ ফয়জুল বাশারের নেতৃত্বে সময় টেলিভিশন, চ্যানেল ২৪ ও এশিয়ান টিভির সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করা হয়। শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক সাংবাদিকরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। পরে অধ্যক্ষ ক্ষমা চাইলে সাংবাদিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। 

জানা যায়, ভুক্তভোগী তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার র‌্যাগিংয়ের শিকার হন। গভীর রাতে দুই দফায় হলের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এসব তাকে গালাগাল, হুমকি এবং মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বিচার চাইতে ঐ ছাত্রী ও তার মা শনিবার সকালে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে যান। 

খবর পেয়ে চ্যানেল ২৪-এর রিপোর্টার কাওছার হোসেন রানা, চিত্র সাংবাদিক রুহুল আমিন, সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার শাকিল মাহমুদ, চিত্র সাংবাদিক সুমন হাসান, এশিয়ান টেলিভিশনের রিপোর্টার ফিরোজ মোস্তাফা ও চিত্র সাংবাদিক আজিম মরিফ তথ্য সংগ্রহের জন্য যান। তাদের বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরার সময় হঠাৎ করে কমিউনিটি মেডিকেল বিভাগের ডা. বাকি বিল্লাহ ও প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. পবিত্র কুমার সাংবাদিকদের প্রথমে চড় থাপ্পড়, পরে চেয়ার দিয়ে পেটাতে থাকে কলেজ অধ্যক্ষসহ তার সহযোগীরা। পরে সাংবাদিকদের রুম থেকে বের করে দিয়ে র‌্যাগিংয়ের শিকার ঐ ছাত্রী ও তার পরিবারকে আটকে রাখে কলেজ অধ্যক্ষ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কমিউনিটি মেডিকেল বিভাগের ডা. বাকি বিল্লাহ ও প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. পবিত্র কুমার হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা কলেজের কর্মচারী ও ছাত্রদের ডেকে এনে হামলার নির্দেশ দেন। ঘটনার পর বরিশালে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা শেবাচিম অধ্যক্ষর কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ জানান। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুপুর দেড়টার দিকে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে অধ্যক্ষর ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, ক্ষমা প্রার্থনায় তারা সন্তুষ্ট নন। হামলার নেতৃত্ব দেয়া ডা. বাকি বিল্লাহ ও ডা. পবিত্র কুমারকে শেবাচিম থেকে বদলির দাবি জানান। 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার শাকিল মাহমুদ বলেন, নিউজ করার জন্য আমাদের তথ্য প্রয়োজন। কিন্তু হঠাৎ করে কলেজের অধ্যক্ষ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা অতর্কিত আমাদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পর মেডিকেল কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন সাংবাদিকরা। 

এদিকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের পর অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার বলেন, অভিযোগকারী ওই ছাত্রী মানসিক রোগী। তার মাও অসুস্থ। দুজনকে চিকিৎসার জন্য একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। সেখানে সাংবাদিকরা ঢুকে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেন। আমি তখন দায়িত্বরত শিক্ষকদের নির্দেশ দেই, সাংবাদিকরা যেন পরে এসে বক্তব্য নেন। তবে শিক্ষক ও সাংবাদিকদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকরা ক্ষমা চেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী নিলীমা জাহান জুই ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছেন তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী।