ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ কে আজাদসহ জেলার ১০ নেতাকে জেলা আওয়ামী লীগের দেয়া অব্যাহতির প্রতিবাদে গতকাল সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়—নেতা তো দূরের কথা, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের একজন কর্মীকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা জেলা পর্যায়ের নেই।

গতকাল দুপুরে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিতে এ কে আজাদের বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এ কে আজাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জাহিদ। অব্যাহতি পাওয়া ১০ নেতা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমি নিজে একজন বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সৈনিক। আওয়ামী লীগ অর্থাৎ শেখ হাসিনা সরকারের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য যা প্রয়োজন তার সব করতেই আমি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলা গড়ার এ চেষ্টায় ফরিদপুর-৩ আসনে ঈগলের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা নস্যাৎ করতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের বহিষ্কারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, যা আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না। নেতা তো দূরের কথা, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের একজন কর্মীকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা জেলা পর্যায়ের নেই।

লিখিত বক্তব্যে শওকত আলী বলেন, ‘কাউকে বহিষ্কার করতে হলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সই করে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তার কিছুই এখানে নেই। তার মানে ফরিদপুর-৩ আসনের নৌকা প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনে সাধারণ মানুষের মাঝে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।’ 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য বিপুল ঘোষ, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফারুক হোসেন, কোষাধ্যক্ষ যশোদা জীবন দেবনাথ, সদস্য সুবল চন্দ্র সাহা।

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের পক্ষে কাজ করায় ও ২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নির্বাচনী সভায় অনুপস্থিত থাকায় বৃহস্পতিবার ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ।

ওই ১০ নেতা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী মাসুদ, কোষাধ্যক্ষ যশোদা জীবন দেবনাথ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুবল চন্দ্র সাহা, মনিরুল হাসান, আবুল বাতিন ও শহীদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ কে আজাদ, খলিফা কামাল উদ্দিন ও শাহ আলম মুকুল।