সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। এত দিন ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষক সবজি চাষে সার-কীটনাশকসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করতেন। এ বছর ইউনিয়নের ১০০ একর জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে রামপুরের ৫০০ কৃষককে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ ও বিনা মূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রত্যেক বছর দেশজুড়ে বিষমুক্ত সবজির চাহিদা বাড়ছে। ভোক্তার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ বছর বিষমুক্ত সবজি চাষের পরিমাণ বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) প্রকল্পের আওতায় কৃষি মন্ত্রণালয় পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি ইউনিয়নে বিষমুক্ত সবজি চাষের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রকল্পের আওতায় ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৫০০ কৃষকের মাধ্যমে ১০০ একর জমিতে বিষমুক্ত সবজির চাষ করা হচ্ছে। সবজি চাষের সব খরচই বহন করছে সরকার।

সরজমিনে দেখা যায়, ফেরোমেন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদ, নেট হাউজ পদ্ধতি ব্যবহার করে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, শিম, কুমড়া, লাউ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা উৎপাদন শুরু করেছেন কৃষকরা। প্রতি একরে অন্তত ১০ টন সবজি উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগের।

বীররামপুরের কৃষক আবুল কাসেম বলেন, বিষমুক্ত সবজি চাষের জন্য আমরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আগামী মৌসুমে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিষমুক্ত সবজি চাষ করব। এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে খরচও কম হয়। তাছাড়া ফলন তুলনামূলক বেশিই হয়।

বীররামপুর গফাকুড়ি এলাকার কৃষক আজিজুল হক বলেন, আমরা এ এলাকায় অনেক আগে থেকেই সবজি চাষ করছি। রামপুরের সবজি ত্রিশাল তথা সারা দেশেই বিখ্যাত। আগে আমরা বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করে সবজি চাষ করতাম। এখন কৃষি অফিস থেকে আমাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমরা প্রথমবারের মতো বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করছি। সরকারিভাবে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য আমাদের কৃষি উপকরণ বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহম্মেদ বলেন, আইপিএম পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য প্রাথমিকভবে দেশের ১০টি ইউনিয়নকে নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নও রয়েছে। কীটনাশকের পরিবর্তে সমন্বিত বালাইনাশক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ২৫ জন করে কৃষকদের ২০টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেক দলের আওতায় রয়েছে পাঁচ একর জমি। এ জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষে সব ধরনের সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ। এরই মধ্যে শীতকালীন লাউ বিক্রি শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি শুরু হবে।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কীটনাশক, বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন সরকারের মূল লক্ষ্য। এতে কৃষকও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন ভোক্তাও কীটনাশক, বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি খেতে পারবেন।