গতকাল দুপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য দিবসের এ অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিরতিহীনভাবে এ টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাব। জনস্বাস্থ্য সঠিক রাখার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখার জন্য এ কার্যক্রম চলবে।’

সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাম পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে হামের টিকা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সাড়ে পাঁচ বছর বিগত দুটি সরকারের টিকা দেয়ার ব্যর্থতা এ বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে আমাদের লক্ষ্য ছিল ৭৬ হাজার শিশুকে টিকা নেবে, সেখানে ৭৩ হাজার শিশু টিকা নিয়েছে। অর্থাৎ প্রথম দিনে টিকা দানে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত সফল হয়েছি।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহ করছি। ইউনিসেফ দিচ্ছে, গ্যাবি দিচ্ছে। অন্য কোনো ফার্মের কাছ থেকে টিকা কিনিনি।’

হামের জন্য নির্ধারিত মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে সচেতন আছি, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে অ্যাটাচমেন্ট বৃদ্ধি করে ডাক্তার দিয়ে যাব, টেকনিশিয়ান, নার্স বাড়ানো হবে। এটার জন্য কষ্ট হবে না। এ মহামারীকে মোকাবেলা করার জন্য শুধু ডিএনসিসি হাসপাতাল নয়, প্রত্যেক জায়গায় আইসোলেশন বেড, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বলে রেখেছি। বড় বড় হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিসরে ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইনটেনসিভ কেয়ার যেখানে আছে, সেগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ প্রতিপাদ্যে এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত বিশেষ অতিথি ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ সভায় উপস্থিত ছিলেন।