ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন খুনের ঘটনায় ৮ নং ওয়ার্ডের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসার রোকনুজ্জামান ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোট স্থগিত করেন। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে বিধি মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে কবিরপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেনের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত হোসেন ওরফে বল্টু ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ওইদিন রাত ২টার দিকে বারইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কুমার নদে পাওয়া যায় একই ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন বাবুর মরদেহ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন, অন্য কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও দলীয় মনোনয়ন পাননি। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পাঞ্জাবি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, নির্বাচনী সহিংসতায় পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর ছোট ভাই লিয়াকত হোসেন বল্টুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। লিয়াকত হোসেন বল্টু বর্তমান কাউন্সিলর শওকত আলীর ছোট ভাই এবং উমেদপুর ইউনিয়নের ষষ্ঠিবর গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এদিকে লিয়াকত হোসেন বল্টু হত্যাকাণ্ডের ৫ ঘণ্টা পর কুমার নদ থেকে প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন খান বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার দেবতলা-বারইপাড়া এলাকার কুমার নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলমগীর হোসেন খান পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের জালাল খানের ছেলে।

ঝিনাইদহের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম জানান, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশ চেকপোস্ট। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব ও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।