সুনামগঞ্জের ১৩টি নদী পুনর্খনন করা হলে নাব্য সংকট দূর হবে। এতে হাওর অঞ্চলের ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। হাওরাঞ্চলে আগামী তিন বছর হাওরে বাঁধে মাটি ফেলা যাবে, এরপর আর মাটি পাওয়া যাবে না। সে সময় হাওরে বাঁধ কাজে আসবে না। সেজন্য বাঁধের বিকল্প হিসেবে অবশ্যই নদী ড্রেজিং করতে হবে।

গতকাল দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, নদীখননের বিষয় নিয়ে এক বছর ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় কমিটির এ-সংক্রান্ত সভা হয়েছে। আমরা কিছু বিষয় সংশোধন করে দেব।

বক্তারা জানান, চলতি মার্চ-এপ্রিলে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি বেশি হয়েছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জে পানি আসতে ৬-১২ ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে ক্ষয়-ক্ষতি ও পানির সংকট যাতে কম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, হাওরের ধান কোনোভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সবার সজাগ থাকা উচিত। আগাম বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া মাত্র নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হবে হাওরের মানুষদের। আবহাওয়ার পূর্বাভাস সবাইকে বিশেষ করে কৃষকদের জানাতে হবে। এজন্য তারা মোবাইলে ভয়েজ ম্যাসেজিং এর ওপর জোর দেন। এছাড়া সব ধরনের গণমাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যাপকভাবে প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আবদুল মুঈদ, সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খুশী মোহন সরকার, প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান, হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, সাধারণ সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার প্রমুখ।