বিয়ের ১৭ বছর পর সাহাব উদ্দিন ও কামরুন নাহার দম্পতির কোল আলো করে আসে মাসুদ আহম্মদ তানভীর (২৪)। ওমানে জন্ম হয়েছে তার। শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ওমানেই। তানভীরের জন্মের চার বছর পর জন্ম হয়েছিল তৌফিক আহম্মদ তারেকের। এরপর দুই ছেলে সন্তান নিয়ে চলে আসেন দেশের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের উত্তর আজমনগর গ্রামে। পরে চট্টগ্রামের হালিশহরে ব্যবসার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন সাহাব উদ্দিন। রোববার (১৯ জুন) খইয়াছড়া ইউনিয়নের নাপিত্তাছড়া ঝরনায় দেখতে গিয়ে বন্ধু ইশতিয়াকসহ নিখোঁজ হন দুই ভাই তৌফিক ও তানভীর। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় ইশতিয়াকের মরদেহ উদ্ধার করে মিরসরাই থানা পুলিশ। সোমবার তানভীর ও গতকাল সকালে তৌফিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঝরনায় উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যান।
গতকাল বিকালে হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব আজমনগর গ্রামের মঈন উদ্দিন ভূইয়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুই ছেলের নাম ধরে বিলাপ করছেন মা কামরুন নাহার। বাবা হয়ে পড়েছেন বাকরুদ্ধ। বিলাপ করতে গিয়ে বারবার বলতে থাকেন আমার তারেক (তৌফিকের ডাক নাম) ও তানভীরকে এনে দাও।
নিহত তৌফিক আহম্মদের বন্ধু শেখ মো. ফাহিম, মঈন উদ্দিন মিরাজ জানান, তৌফিক চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া তৌফিকের বড় ভাই তানভীর ইউএসটিসির বায়োকেমিস্ট্রির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তানভীর বড় হলেও তৌফিক ও তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যেতেন। রোববার তাদের পাঁচজনের একসঙ্গে ঝরনায় যাওয়ার কথা থাকলেও ফাহিম ও মিরাজকে পরিবার থেকে যেতে দেয়া হয়নি। পরে তৌফিক, ইশতিয়াক ও তানভীর খইয়াছড়া ইউনিয়নের নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা দেখতে যান। ওইদিন রাতে শুনতে পান ইশতিয়াকের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে সোমবার তানভীর ও গতকাল সকালে তৌফিকের মরদেহ উদ্ধার করে মিরসরাই থানা পুলিশ।










